বিষয় সন্ধান

বিনিয়োগ সাফল্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিনিয়োগ সাফল্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

BSRMSTEEL : ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাস যখন মুনফা দেয়

 


পুঁজি বাজারে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে যে, লোকজন মুনাফার চেক আপনার বাড়ির দরজায় এসে ফেলে দিয়ে যায়। আপনাকে শুধু সাহস করে দরজা খুলে চেকটা কুড়িয়ে আনতে হবে। আর নিজের উপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে সময় বুঝে চেকটা ভাঙ্গানোর।
ফ্ল্যাশব্যাক ৯ই নভেম্বর ২০২৫
পাঁচ টাকা ক্যাশ ডিভিন্ডে দেয়া একটা ষ্টক মাত্র ৬৬ টাকায় বিক্রি হল। ঘোষিত ইপিএস ১৩.৭৭ টাকা, এনেভি ৯০.৫২ টাকা। প্রাইস টু আর্নিং মাত্র ৪.৮, প্রাইস টু বুক ভ্যালু ০.৭৩ !! কোম্পানি বেচে স্টিল, দেশের ১ নম্বর ব্যান্ড যা লোকজন দোকানে গিয়ে অন্য ব্যান্ডের চাইতে ৫০০-১০০০ টাকা পার টন বেশি দাম দিয়ে কেনে। পুরা স্টিল সেক্টরের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন যেখানে ৪০-৫০% সেখানে এই কোম্পানির ফ্যাক্টরি ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ১০০-১১০%
বেক টু প্রেজেন্ট ১৩ই জুলাই ২০২৬
একই কোম্পানির শেয়ার গতকাল লেনদেন হল ৯৩-৯৫ টাকায়। প্রজেক্টেড ইপিএস ১৭ টাকা, প্রজেক্টেড এনেভি ১১৪ টাকা। প্রাইস টু আর্নিং মাত্র ৫.৬ , প্রাইস টু বুক ভ্যালু ০.৮৩ !!
এই ৯৪-৯৫ টাকায় ও আন্ডার ভ্যালুড বলা যায়। অথচ মাত্র ৯ মাসেই ক্যাশ ডিভিডেন্ড এডজাস্টেড রিটার্ন ৫৫%! ধন্যবাদ তাদেরকে যারা চেকের পাতাটা ফেলে গিয়ে ছিলেন। আপনারা পুজিবাজারে আছেন বলেই বাকিরা এখনো কিছু করে-টরে মুনফার দেখা পায় !
গুরু বাফেট ঠিক-ই বলেছিলেন, " ভয় পাও যখন পুজিবাজারের সবাই সাহসী হয়ে উঠে, আর সাহসী হও যখন সবাই ভয়ে পানিয়ে যায় "

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪

গ্রামীণ ফোন : সবুরে মেওয়া ফলে

 আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রায় পাঁচ বছর অধ্যাবসায়ের পর একটা ধীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ লক্ষমাত্রা পূরণ হল আজ। ইচ্ছে ছিল গ্রামীণ ফোনের একচ্যুয়াল কস্টিং ১০০ টাকায় নামিয়ে আনব । ২০২০ সালের জুন-জুলাই মানে ২৫০ টাকায় ৩০০০ জিপি কিনে যাত্রা শুরু। ঐ বছর জিপি থেকে মূলত ডিভিডেন্ড পেয়েছি । ২০২১ সালে ডিভিডেন্ড এর পাশাপাশি ভাল একটা ক্যাপিটাল গেইন করি বাজার মূল্য ২৫০ থেকে ৩৯০ হওয়ার কারণে । বাজার মূল্য আবার ৩০০ এর নিচে নেমে আসয় বাই-ব্যাক শুরু করি।  ২০২২ এবং ২০২২৩ এর আয়টা হয়েছে বাই-ব্যাক করা শেয়ার গুলর ডিভিডেন্ড গেইন থেকে হয়েছে। এই সময়ে ২০২১ সালের করা ক্যাপিটাল গেইন এবং ২০২২-২৩ সালের ডিভিডেন্ড দিয়ে হোল্ডিং শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। ২০২৪ এর আগস্টে এসে ডিভিডেন্ড গেইনের পাশাপাশি পার্শিয়াল সেল দিয়ে আকর্ষণীয় একটা ক্যাপিটাল গেইন ও হল । সব মিলিয়ে এই পাঁচ বছরে জিপি থেকে যত মুনাফা করেছি তা  পোর্টফলিওর ক্রয় মূল্যের সাথে এডজাস্ট করলে আজকের দিনে (১৪ই আগস্ট ২০২৪ ) আমার প্রকৃত ক্রয় মূল্য ১০৬.৩ টাকা !


 ছবিতে গত পাঁচ বছরের চিত্র আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। পোর্টফলিতে জিপির প্রতিটা শেয়ারের ক্রয় মূল্য ২৮৯.৭৫ টাকা দেখালেও আমার প্রকৃত ক্রয় মূল্য ( যে টাকা আমি নিজের পকেট থেকে দিয়েছি) ১০৬.৩ টাকা । আর বাকি ২৮৯.৭৫ - ১০৬.৩ = ১৮৩.৪৫ টাকা হল জিপি থেকে পাওয়া গত পাঁচ বছরের মুনাফা ।

পরবর্তী লক্ষ প্রকৃত ক্রয় মূল্য শূন্যে নামিয়ে আনা। ইনশাল্লাহ আগামীতে  বাৎসরিক ২৫ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড পেলে চার বছরেই লক্ষ পূরণ হয়ে যাবে । যদি এর মধ্যে আবারো ট্রেডিং করার সুযোগ পাই তবে আরও আগেই লক্ষ পূরণ হয়ে যাওয়া সম্ভব ।        

শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট : DOREENPWR

 


আলহামদুলিল্লাহ !! সদ্য সমাপ্ত ২০২১ সাল পুঁজি বাজারের জন্য খুবই ভাল একটি বছর ছিল । এই বছর বাজারের গড় রিটার্ন ছিল ২৫.০৬%|  ২০১০ পরবর্তী বছরগুলতে এমন হেলদি রিটার্ন জেনারেট করা বছর আমরা খুব বেশী পাইনি।  আমার নিজের জন্যেও বছরটি বেশ ভাল গিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

এই বছরে সব চেয়ে বেশী মুনফা করতে পেরেছি DOREENPWR থেকে , টাকার অংকে যার পরিমাণ ৭,৫১,৩৩২| মূলক বড় মুনফা সম্ভব হয়েছে দুইটি কারণে - (১) ভাল স্টক কম দামে কিনতে পারা  এবং (২) মূল্যের উঠা-নামাগুল বুঝে হোল্ডিং ষ্টকের একাংশ বাই-সেল করতে পারা ।

বছরের শুরুতে এই শটকে আমার এভারেজ বাই প্রাইস ছিল ৫৯.৩ টাকা । যা স্টকটির ফান্দামেন্টাল (এনেভি ৪৫, প্রজেক্টেড ইপিএস ৮+ ) অনুযায়ী যথেষ্ট আন্ডার ভ্যালুড। বাজার যেখানে ১৬+ পিইতে ছিল সেখানে এই স্ক্রিপ্ট ৮ পিই এর আশেপাশে লেনদেন হচ্ছিল ।

এপ্রিল থেকে বাজার উর্ধ্মূখী হওয়া শুরু হলে এই স্ক্রিপ্ট ও  উঠানামা করে ৯০+ হয়েছিল । ফলে হোল্ডিং এর একাংশ (২০%) পার্সিয়াল সেল এবং বাই-বেক করতে পেরেছি বেশ কয়েক বার  । বছরের শেষ কোয়ার্টারে মার্কেট কারেকশন শুরু হলে এটি ও ভাল পরিমাণে প্রাইস কারেকশনের সম্মুখীন হয় । যা আমার জন্য ছিল বিক্রিত শেয়ারগুল কিনে নেয়ার সুযোগ । সাথে কোম্পানি ঘোষিত ১২% ষ্টক এবং ১৩% ক্যাশ বোনাস ও ক্লেইম করেছি ।          

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

GBBPOWER: প্রচন্ড হতাশা যখন মুনফা দেয়

সময় কালঃ এপ্রিল ২০১৯ থেকে অক্টোবর ২০১৯, ৭ মাস
মুনফার পরিমানঃ ৩৫ শতাংশ।

২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ০.৯৪ টাকা মুনফা হওয়া সত্যেও কোম্পানিটি অভাবনীয় ভাবে নো ডিভিডেন্ড এর ঘোষনা দিয়ে বসে। মূলত গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি কোম্পানির জরিমানার কবলে পড়ে পরিচালনা পরিষদের এমন আজব সিদ্ধান্ত। কেউ কেউ এটিকে পরিচালকদের কারয়াজি বলেও অভিযোগ করল। ফলাফল ১৮-২০ টাকায় ট্রেড হওয়া স্টকের ব্যাপক মূল্য পতন। এক দিকে বছর শেষে ডিভিডেন্ড না দেয়া অপরদিকে এ ক্যাটাগরি থেকে আচমকা জেড ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম হতাশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর বাজারের এমন চরম হতাশা (পেনিক সেল) অনেক সময় মুনফার সুযোগ নিয়ে হাজির হয়।

  















শুরুতে এটি নিয়ে আমার কোন আগ্এরহই ছিল না। কিন্তু এপ্রিল-মে মাসে বাজার পতনের আথে সাথে কোম্পানিটি ব্যাপক কারেকশনের স্বীকার হল। ১৯ টাকা এনেভির কোম্পানি নেমে আসল ৯-১০ টাকায়! মাত্র ১০০ কোটি পেইডাপের কোম্পানির কাছে তখন ব্যাংক এফডিয়ার ছিল ৬১ কোটি। পাশাপাশি কোন দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাংক ঋণ ছিল না। অপর দিকে গ্যাস কোম্পানির জরিমানা প্রায় শোধ করে ফেলেছে এবং ইপিএস ও পজেটিভ রাখতে পারছে। সব কিছু দেখে আগ্রহ জাগল।

বিনিয়োগ হিসেবে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি বরাবরই আমার অপছন্দ। আবার ৯.৫-১০ টাকা বাজার মূল্য বিবেচনায় কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল ও ফেলে দেয়ার মত না। অবশেষে নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করে শুধু মাত্র সর্ট ট্রেড (লাভ পেলেই মুনফা তুলে ভেগে যাওয়া) করার জন্য ১০ টাকায় এন্ট্রি নিয়ে ফেললা্ম এপ্রিলের মাঝামাঝি। ৩য় প্রান্তিক ভাল আসায় এবং বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজার কিছুটা ভাল হওয়ায় মে মাসেই দাম ১২ টাকায় উঠে আসল। ১১ টাকা থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিক্রি করায় আমার এভারেজ সেল প্রাইস হল ১১.৬ টাকা মুনফা হল ১৫ শতাংশ।

বাজেট ঘোষনার পর বাজার আবার পড়তে শুরু করল। বাংলাদেশে ব্যাংকের ২য় মনিটারি পলিসি ঘোষণার আগে আগে বাজার পরিস্থিতি হল আরো খারাপ। ১২ টাকা থেকে কমতে কমতে জিবিবি পাওয়ার আবার ১০ টাকার নিচে নেমে আসল। জুলাই এর মাঝামাঝি সা
হস করে আবার এন্টি নিলাম ১০ টাকায়। সেপ্টেম্বর মাসে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলর ডিভিডেন্ড আসা শুরু হওয়ায় এই স্টক আবার ১২-১২.৫ টাকায় উঠে আসল। এবার বিক্রি করতে পারলাম ১২.২ টাকায় - সেকেন্ড রাউন্ডে মুনফা হল ২০ শতাংশ।

নভেম্বর মাসে বাজার পরিস্থিতি এত খারাপ হল যে ১০ টাকায় আবার কেনার সুযোগ পেয়েও খারাপ বজারে জেড গ্রুপ কোম্পানির ডীভিডেন্ড ফেস করার আহস করতে পারি নাই। তাই এবার আর এন্ট্রি নেয়া হয় নাই। নিলে ৪০-৫০% মুনফা হতে পারত। অবশ্য ২০১৯ সালের চরম খারাপ বাজারে এত বড় মুনফা মিস করার আফসোস না করে আমি বরং আগের দুই ট্রেডে মোট ৩৫% মুনফা লক করতে পারায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি, আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালে ক্লোজ করা অন্যতম লাভজনক একটি ট্রেড ছিল এই জিবিবি পাওয়ার। 

    

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯

ইনকাম ইনভেস্টমেন্টঃ MPETROLEUM

বিনিয়োগ সময় কালঃ নভেম্বর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯,৪.৫ মাস।
মুনাফার হারঃ ৩৩ শতাংশ

ইনকাম ইনভেস্টমেন্টের প্রধান টার্গেট কোম্পানির ডিভিডেন্ড, ক্যাপিটাল গেইন এখানে মুখ্য নয়। তবে ডিভিডেন্ডের আগে পরে আশাতীত ক্যাপিটাল গেইন পেয়ে গেলে তা বুক করে ট্রেড ক্লোজ করা যেতে পারে।

MPETROLEUM – জ্বালানী খাতের কোম্পানিটি ৩য় প্রান্তিকে ১৮.১২ টাকা মুনাফা রিপোর্ট করে। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪.৩১ টাকা। আয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে আয় হতে পারে ২৪/২৫ টাকার কাছাকাছি। আর পূর্বের যা ডিভিডেন্ড রেকর্ড তাতে ১২/১৩ টাকা ডিভিডেন্ড পাবার আশা করাই যায়।

Trading Code: MPETROLEUM
News: (Q3 Un-audited): EPS was Tk. 6.35 for January-March 2018 as against Tk. 4.19 for January-March 2017; EPS was Tk. 18.12 for July 2017-March 2018 as against Tk. 14.31 for July 2016-March 2017. NOCFPS was Tk. 32.27 for July 2017-March 2018 as against Tk. 24.32 for July 2016-March 2017. NAV per share was Tk. 98.47 as on March 31, 2018 and Tk. 91.35 as on June 30, 2017.
Post Date: 2018-04-23


মে ২০১৮ থেকেই শেয়ারটি ওয়াচ লিস্টে যোগ হয় তার ৩য় প্রান্তিকের ইম্রেসিভ আর্নিং এর জন্য। কিন্তু নির্বাচন পূর্ব টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে বাজার সেই ভাবে রিয়েক্ট করে নি। শেয়ারটির দাম ১৮০-১৯০ লেভেলে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তাই ওয়াচ লিস্টে রেখে ডিভিডেন্ডের যথা সম্ভব কাছাকাছি সময়ে কেনার ইচ্ছা ছিল। ১৮০-১৯০ রেঞ্জে কিনে ১২/১৩ টাকা ডিভিডেন্ড পেলে ঈল্ড দাঁড়ায় প্রায় ৭%! ডিভিডেন্ড ক্লেইম করার পর ২/৩ মায়েই তা ফ্রি হয়ে যাবে এই হিসাব করে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে কেনা শুরু করি এবং ডিভিডেন্ড ডিক্লারেশনের আগে আগে ১৮৬ এভারেজে কেনা শেষ করি। নভেম্বরের ২য় সপ্তাহে কোম্পানিটি ৩৩ টাকা ইপিএসের বিপরীতে ১৪০ শতাংশ ক্যাশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। বলাই বাহুল্য ইপিএস এবং ক্যাশ ডিভিডেন্ড দুটিই ছিল ধারনার চাইতে বেশি। ফল সরূপ সেই সপ্তাহেই দাম ২০০ ছুঁয়ে যায়। ৪র্থ প্রান্তিকের ইপিএস বেশি আসায় ডিভিডেন্ড ক্লেইম করে পরের প্রান্তিকগুল দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম।

Trading Code: MPETROLEUM
News: The Board of Directors has recommended 140% cash dividend for the year ended on June 30, 2018. Date of EGM & AGM: 12.01.2019, Time of EGM & AGM: 10:30 AM & 11:30 AM respectively, Venue: City Hall Convention Center, Agrabad Access Road, Chattogram. Record date for EGM & AGM: 02.12.2018. (cont.)
Post Date: 2018-11-08

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেও ইপিএস এর উর্ধগতি অব্যাহত ছিল। সাথে জাতীয় নির্বাচন শেষে বাজারেও তেজী ভাব ফিরে আছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারী ২০১৯ এর শেষ সপ্তাহে দাম ২৪০ উঠে যায়। ২৩০ থেকেই ধাপে ধাপে বিক্রি শুরু করারায় আমার এভারেজ সেল প্রাইস দাঁড়ায় ২৩৫ টাকা। ট্রেড ক্লোজ করার পর মোট মুনফা দাড়ায় ১৪০% ক্যাশ (১০% ট্যাক্স কাটার পর ১২.৬ টাকা ডিভিডেন্ড গেইন) প্লাস ২৩৫-১৮৬= ৪৯ টাকা ক্যাপিটাল গেইন। ১৮৬ টাকা ইনভেস্টমেন্টে ৪.৫ মাসে ৬১.৬ টাকা মুনফা (৩৩%)।

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

ইনকাম ইনভেস্টমেন্টঃ UPGDCL

বিনিয়োগ সময় কালঃ ২০ শে এপ্রিল থেকে ৪ঠা জুন ২০১৭, ১.৫ মাস।
মুনাফার হারঃ ২০ শতাংশ

ইনকাম ইনভেস্টমেন্টে প্রধানত কোম্পানির ডিভিডেন্ডকে টার্গেট করা হয়, ক্যাপিটাল গেইন এখানে মুখ্য নয়। তবে ডিভিডেন্ডের আগেই আশাতীত ক্যাপিটাল গেইন পেয়ে গেলে তা বুক করে ট্রেড ক্লোজ করা যেতে পারে।

UPGDCL - বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি ৩য় প্রান্তিকে ৮.৮৫ টাকা মুনাফা রিপোর্ট করে। আয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে আয় হতে পারে ১২ টাকার কাছাকাছি। আর পূর্বের যা ডিভিডেন্ড রেকর্ড তাতে ৮-৯ টাকা ডিভিডেন্ড পাবার আশা করাই যায়।

আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ হোল্ড করে ৮-৯ টাকা ডিভিডেন্ড নেয়ার উদ্দেশ্যে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ১৫৪ এভারেজে শেয়ারটির কালেকশন শেষ করি। সমসাময়িক ব্যাংক সুদ হার ( ৫.৫ শতাংশ) ধর্তব্যে নিলে ৮-৯ টাকা ডিভিডেন্ড এর বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১৪৬-১৬৪ টাকা। সে হিসাবে ১৭০-৭৫ টাকা পেলে বিক্রি করব, আর না পেলে ডিভিডেন্ড খাব এই ছিল টার্গেট।   




আমি প্রধানত ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস অনুসরন করলেও টুকটাক টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যবহার করার চেষ্টা করি। আইডিয়াটার নাম টেকনো-ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস। এই উপায়ে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করে ষ্টক নির্বাচন করা হয়। শুধু নির্বাচিত স্টকটি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল এনালাইসিস ব্যবহার করা হয় মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। সম্প্রতি ইলিয়ট ওয়েভ প্রিন্সিপাল নিয়ে আমার কিঞ্চিৎ আগ্রহ জন্মেছে। এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে এটি ব্যবহার করায় উক্ত বিনিয়োগে বাড়তি কিছু মুনাফা করার সুযোগ হয়েছে।

শুধু ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস অনুসরণ করলে ১৫৪ তে কেনা স্টকগুল ১৭২ সেল দিয়েই ট্রেডটি শেষ হত। যাতে মুনাফা হত ১২ শতাংশ। ইলিয়ট ওয়েভ প্রিন্সিপাল ব্যাবহার করায় বাড়তি আরেকটি ট্রেড করার সুযোগ পাই। এই ট্রেডে ১৭৫ পরবর্তি কারেকশনের সুযোগে ১৬৫ এভারেজে কেনা স্টকগুল ১৮৭ টাকায় বিক্রি করার মাধ্যমে মোট লাভের পরিমান ১২ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হই, আলহামদুলিল্লাহ। অর্থাৎ এই বিনিয়োগে ফান্ডামেন্টালের অবদান ১২ শতাংশ আর বাকি ৮ শতাংশ মুনাফা এসেছে ইলিয়ট ওয়েভ প্রিন্সিপাল থেকে।   

ছয় মাস অপেক্ষা করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বিনিয়োগটি শুরু করলেও মাত্র ১.৫ মাসেই টার্গেট পূরণ হয়ে যাওয়ায় আগাম মুনাফা নিয়ে সন্তুষ্ট চিত্তে ট্রেডটি ক্লোজ করেছি। এখন পর্যন্ত ২০১৭ সালের অন্যতম সফল বিনিয়োগ।

Technical Details (
Elliott wave principle):
Wave-1: 139 to 157 = 18
Wave-2: 157 to 146 = -11, About 61% retracement of wave-1.
Wave-3: 146 to 175.4 = 29.4, 161% extension of wave-1
Wave-4: 175.4 to 160.7 = -14.7, About 50% retracement of wave-3
Wave-5: 160.7 to 189.8 = 29.1, About 161% extension of wave-1

Wave-3 Forecast ( wave-1 =x)
1.00x: 164 - [accomplished on 02-05-2017]
1.38x: 170 - [accomplished on 04-05-2017]
1.50x: 173 - [accomplished on 04-05-2017]
1.61x: 175 - [accomplished on 07-05-2017]

Wave-4 Forecast ( wave-1=x) 
25% retracement 168.2 - [accomplished on 09-05-2017]
30% retracement 166.6 - [accomplished on 14-05-2017]
35% retracement 165.1 - [accomplished on 15-05-2017]
38% retracement 164.3 - [accomplished on 15-05-2017]
45% retracement 162.1 - [accomplished on 15-05-2017]
50% retracement 160.8 - [accomplished on 15-05-2017]

Wave-5 Forecast (X wave-1=x) : 
wave-1 X 1.00 extension 179 - [accomplished on 23-05-2017]
wave-1 X 1.61 extension 190

Exit from the trade at 187.


শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭

সরল অংকঃ FIRSTSBANK



আমরা সবাই হন্যে হয়ে পূঁজি বাজারে হট-স্টক, মানি ডাবল ষ্টক খুঁজে ফিরি। মুনাফার খোঁজে এতই উতলা হয়ে থকি যে সহজ হিসাব আমরা ভুলে যাই। ২০১৬ এর শুরু থেকেই ব্যাংক সুদ হার ১০ এর নিচে নেমে আসে। জুন-জুলাই তে অবস্থা আরো করুণ। সুদ হার ৬-৭ এ চলে আসে যেখানে ইনফ্লেশন হার ৫-৫৫। আর তখনই ব্যাংক, বীমা, ফাইনান্স খাতের ক্যাশ বোনাস দেয়া কম দামী স্টকে সুযোগ তৈরি হল।

খুব সহজ সরল অংক। ১০০ টাকা সঞ্চয়ে যদি ১২ মাসে মাত্র ৬ টাকা মুনাফা মেলে, তবে প্রতি ১ টাকা মুনফার জন্য ১৭ টাকা ব্যংকে রাখতে হবে। অথচ ১০-১৫% ক্যাশ বোনাস দেয়া ব্যাংক স্টকের দাম ৮-৯ টাকা! দাম বাড়ার সমূহ সম্ভনা ......



    
ট্রেড -১ঃ  জুলাই ২০১৬ এর শেষ ভাগে ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ১+ ইপিএস দিল ৬ মাসে অথচ বাজারে দাম ৮ টাকা। নির্দিধায় কিছু কিনে রাখলাম  । অক্টোবরের মাঝামাঝি দাম উঠে গেল ১১ টাকা। ৩০% মুনাফা কম নয়, তাই ক্যাশ করতে ভুল হয়নি।

ভেবেছিলাম ট্রেডটি এখানেই শেষ কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বাজার নতুন সুযোগ দিল।

ট্রেড-২ঃ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাজারে শুরু হল ৩য় প্রান্তিকের ইপিএস ঝড়। টালমাটাল বাজারে ব্যাংকটি
'৫+ ইপিএস দিলও স্টকটি ১০৪ এ কেনার সুযোগ পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ বাজার নভেম্বরের শুরুতেই আর্থিক খাত মুখী হল। অন্যদের সাথে এই স্টকও বাড়তে বাড়তে ১৩ টাকার উপরে চলে আসে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ১৩২ টাকায় বিক্রি করে দ্বিতীয় ট্রেড শেষ করলাম। এই যাত্রায় মুনাফা হল ২৭% ।

বোনাস ডিক্লারেশনের আগে ৩য় সুযোগ
পাব কী?  

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৬

Summit Power: প্রচণ্ড হতাশা (Panic) থেকেই মুনাফা

বিনিয়োগ সময় কালঃ ১৬ই আগস্ট থেকে ১৪ই অক্টবর ২০১৬, ২ মাস।
মুনাফার হারঃ ১৬ শতাংশ 

ঘটনার সূত্রপাত মার্চ ২০১৬ এর মাঝামাঝি সময়ে, ২০১৫ সালের ডিভিডেন্ডের সাথে Summit, SPPCL ও Summit Narayanganj এর এমাল্গেমেশনের ঘোষনা আসে। ঘোষনার পর থেকেই শুরু হয় SPPCL এর মূল্য পতন। শুরুতে এই পতন ছিল যৌক্তিক কারন Summit এর চাইতে SPPCL এর বাজার মূল্য, এনএভি, ইপিএস সবই বেশী ছিল। ডিভিডেন্ড এডজাস্টমেন্টের পর এই পতন আরও তরান্বিত হয়।

আগস্টের শুরুতেই Summit ৩৪-৩৬ টাকায় ও SPPCL ৪০-৪২ টাকায় নেমে আসে। এমাল্গেমেশনের রেকর্ড ডেটের এক সপ্তাহ আগের অবস্থা আরও খারাপ, Summit ৩২-৩৩ টাকায় ও SPPCL ৩৮-৪০ টাকায় লেনদেন হতে থাকে। আর এখানেই সৃষ্টি হয় সুযোগ। কোন ষ্টক ঘিরে বাজারে যখন প্রচণ্ড হতাশা (Panic) তৈরী হয় তখন বিনিয়োগকারীগণ খুব সাধারন হিসাবও ভুলে যায়। কে কার আগে সেল দিয়ে স্টকটি থেকে বের হবে সেই প্রতযোগীতায় নেমে যায় সবাই।

SPPCL এর একটি শেয়ারের বিপরীতে Summit এর ১.৩০৯ টি শেয়ার দেয়ার ঘোষণা ছিল। বাজারে তখন Summit এর দাম ৩২ টাকা। সেই হিসেবে SPPCL এর দাম হওয়া উচিত ৩২*১.৩০৯=৪১.৯ টাকা। কিন্তু পেনিকের শিকার স্টকটি তখন বিক্রি হতে থাকে মাত্র ৩৮-৪০ টাকায়। ১৬ই আগস্ট থেকে রেকর্ড ডেটের আগ পর্যন্ত অল্প অল্প করে কিনতে থাকি। শেষ ট্রেডিং ডে তে আমার SPPCL এর এভারেজ কালেকশন রেট ছিল ৩৯ আর Summit এর ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৩২। মানে SPPCL কে Summit এ কনভার্ট করলে আমার গড় ক্রয় মূল্য দাড়ায় ৩০ টাকা !

কিন্তু ভাগ্য খারাপ কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার টানাপড়েনে প্রায় দেড় মাসের জন্য সামিটের লেনদেন আটকে যায়। যেখানে এক সপ্তাহে মুনাফা পাওয়া যেত সেখানে প্রায় ৪০ দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে অক্টবরের ১০ তারিখে সামিট আবার লেনদেনে ফিরে আসে। প্রাথম দুই দিনেই দাম উঠে যায় ৩৫-৩৬। কয়েক ধাপে বিক্রি করে আমার গড় বিক্রিয় মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ টাকা। ৩০ টাকার শেয়ারে ৫ মুনাফা ! দুই মাসেই লাভ ১৬%। প্রচণ্ড হতাশা ও মাঝে মাঝে মুনাফা দেয়, শুধু নিজে পেনিক না হয়ে সুযোগটি চিনতে পারা ও সেই অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করতে পারলেই মুনাফা নিশ্চিত।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

বাস্তব জ্ঞানঃ IFILISLMF1




সময়কালঃ ২৭শে মে - ২০শে আগস্ট, ২০১৫। মাত্র ৩ মাস।

পুঁজি বাজারে সফল হবার জন্য Common Sense তথা বাস্তব জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। আর মার্কেট সম্পর্কিত এই বাস্তব জ্ঞান সময়ের সাথে সাথেই অর্জিত হয়। অর্থাৎ বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করলে প্রতিটি ট্রেড থেকেই লাভ/লসের পাশাপাশি আপনি কিছু না কিছু শিখবেন। অভিজ্ঞতা লব্ধ এই শিক্ষা অমূল্য সম্পদ কারন পুঁজি বাজার সম্পর্কিত পুথিগত বিদ্যা বা ট্রেনিং কোন কিছু থেকেই আপনি এই শিক্ষা লাভ করতে পারবেন না। তাই পুঁজি বাজারে শুরুর ৪-৫ বছর কষ্ট করে টিকে থাকতে পারলে আপনার বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ ভাল হবার সম্ভবনা যথেষ্ট। এই সময়ের অর্জিত অভিজ্ঞতা আপনাকে ভবিষ্যতে ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নিশ্চিত ভাবেই সাহায্য করবে।

সাধারণত কোন স্টক বাছাই কালে আমি কোন না কোন বিনিয়োগ স্ট্রেটেজি অনুসরণ করি। কিন্তু
IFILISLMF1 স্টকটি বাছাই করার ক্ষেত্রে আমি কোন স্ট্রেটেজি-ই অনুসরণ করিনি। শুধু মাত্র বিগত ৭ বছরের ক্ষুদ্র অভিগ্যতা থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, কিছুটা সময় ধৈর্য ধারন করতে পারলেই স্টকটি থেকে আকর্ষনীয় মুনাফা করা সম্ভব হবে।



মে,২০১৫ এর শেষ দিকে মার্কেট মূলত ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড নিয়ে মহা ব্যাস্ত। প্রায় সবাই প্রবল উৎসাহে ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানি কেনাবেচা করছে। অথচ জুন ক্লজিং কোম্পানিগুলো তখন প্রায় নিশ্চুপ। বিগত নয় মাসে ০.৭২ টাকা আয় করা IFILISLMF1 মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি তখন ৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ১ টাকা বাৎসরিক আয় করা ফান্ডটি ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ায় দাম উঠেছিল ৭.৪ টাকা। এই বছর ফান্ডটির শেষ প্রান্তিক অথা এপ্রিল-জুন,২০১৫ মার্কেটের অবস্থা বেশ ভালই গিয়েছে। আমার মত সাধারন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যেখানে এই সময়ে ভাল মুনাফা করতে পেরেছে সেখানে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলর ভাল না করার কোন কারন নেই। তাই এই বছরও ফান্ডটির বাৎসরিক আয় ১ টাকার আশপাশেই হবে। ফলে গত বছরের ন্যায় এই বছরও ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড আসার সম্ভবনা যথেষ্ট। ভাবুন ৬ টাকায় আপনি যদি ১ টাকা মুনাফা পান তবে ১৬% মুনাফা দেয়া স্টকের দাম বৃদ্ধি না পাবার কী কারন ঘটতে পারে? আর দাম না বাড়লে তেমন কোন ক্ষতিও নেই, ডিভিডেন্ড নিলেও ১৬% মুনাফা হবে। অতি সাধারন এই বিবেচনা বোধ থেকেই মে মাসের ২৯ তারিখে ৬ টাকা মূল্যে যথা সম্ভব বেশি পরিমাণ IFILISLMF1 ক্রয় করি।

জুন-জুলাই, ২ মাসের অপেক্ষা শেষেই বাজারের মনোযোগ জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর দিকে চলে আসে, কারন ততদিনে প্রায় সব ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানির ডিভিডেন্ড ডিক্লারেশন হয়ে গেছে। ফলে বাজারে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর চাহিদা বাড়ায় এই স্টকটির দামও ৬ টাকা থেকে ৬.৫ টাকায় চলে আসে। আর আগস্টের ২য় সপ্তাহেই আমার প্রত্যাশা অনুযায়ি মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি ১.০২ টাকা বাৎসরিক আয়ের বিপরীতে ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষনা করে। ফলে ১০-১২ দিনের ব্যবধানেই দাম ৬.৫ থেকে ৭ টাকার ঘরে চলে আসে। আর আজ (২০ শে আগস্ট, ২০১৫) ভাল দাম পেয়ে হাতে থাকা সবগুলো ষ্টক ৭.২ টাকায় বিক্রি করে দিলে মুনাফা তুলে নিয়েছি।

৬ টাকার বিনিয়োগ ৩ মাসেই ১.২ টাকা লাভ দিয়েছে। ব্রকারেজ কমিশন বাদ দিলেও মুনাফার হার দাঁড়ায় প্রায় ১৮.৯%। এক কথায় অসাধারন একটি ট্রেড কারন বিগত তিন মাসে এক বারের জন্যও এই স্টকটি নিয়ে আমি কোন টেনশন অনুভব করিনি। সল্প সময়ে নিশ্চিত-নির্ভার বিনিয়োগ যখন ১৮.৯% মুনাফা দেয় তখন আনন্দে আটখানা না হয়ে উপায় কি বলুন।      

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

ভ্যালু ইনভ্যাস্টমেন্ট-৩ : FAREASTLIF



বিনিয়োগ সময় কালঃ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে জুলাই ২০১৫, ৮ মাস।

২০১০ এর মার্কেট ক্রেশ হবার পর থেকেই ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মন্দা বাজারেও যেখানে মার্কেট PE ১৪-১৫ সেখানে এই সেক্টর তিনটির PE ১০ এর নিচে আছে গত ২-৩ বছর ধরে।  আর বাজারের যে সেক্টরগুলো সবচেয়ে বেশী মন্দাবস্থায় থাকে সেখানেই লাভ করার সুযোগ সব চেয়ে বেশী পাওয়া যায়। এই সেক্ট্রগুলতে প্রায় সব শেয়ারের দামই যেহেতু কম, সেহেতু সুযোগ সন্ধানী বিনিয়োগকারী হিসেবে আমার একটাই কাজ ছিল – তুলনামূলক ভাবে ভাল ও শক্তিসালী কোম্পানি খুঁজে বের করা। 

FAREASTFIL – জীবন বীমা খাতে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম কোম্পানি যদিও পরিশোধীত মূলধন মাত্র ৫৬ কোটি টাকা। ২৮% প্রাতিষ্ঠানিক ও ৩৭% শেয়ার ব্যাক্তি বিনিয়োগকারীর হাতে থাকায় এখানে বিনিয়োগ তুলানামূলক ভাবে নিরাপদ মনে হয়েছে। আর ২০১৩ সালে কপম্পানিটি ৪০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ায় এর আর্থিক সামর্থও প্রমানীত।

সমস্যা একটাই মার্কেটের অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মত জীবন বীমা কম্পানি ৩ মাস পর পর দেয়া প্রান্তিক প্রতিবেদনে EPS, NAV ইত্যাদি তথ্য দেয় না শুধু ঐ সময়ে কত প্রিমিয়াম আয় হয়েছে শুধু তা-ই প্রকাশ করে। ২০১১ এর আগে অবশ্য অন্যান্য কোম্পানির মত বীমা কম্পানিও NAV, EPS প্রকাশ করত, আর সেখান থেকেই আমি জানতাম যে, এই কোম্পানির NAV ৬৮ টাকা। ২০১৩ সালে ৪০% ক্যাশ বোনাস দিয়েছে আর ২০১৪ এর ৩য় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রিমিয়াম আয় ছিল ২০১৩ এর চাইতে ৬% বেশি। সুতবাং এ বছর যে ৪০% এর বেশি ডিভিডেন্ড আসবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল। ফলে আমার এনালাইসিস বলছিল, Benjamin Graham Number (BGN) অনুসারে এই কোম্পানির বাজার মূল্য অনায়াসে ৭৮-৮২ হতে পারে।


Benjamin Graham Number(BGN) = Square Root (22.5*EPS*NAV)
FAREASTLIF = Square Root (22.5*4.28*68) = 80.5


 



২০১৩ এর অক্টোবরে ডিভিডেন্ড এডজাস্টমেন্টের পর থেকেই দাম কমতে থাকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যখন দাম ৭৪-৭৫ তখন আমি প্রথম কিছু শেয়ার কিনি। আর আমার বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি কখনই একটি শেয়ার সবটুকু একবারে কিনে ফেলি না। প্রথম বার কেনার সময় ধরেই নেই যে, আমার কেনার পর দাম ১৫-২০% কমে যেতে পারে। তাই যতটুকু অর্থ এই শেয়ারে বিনিয়োগ করার টার্গেট করি তার ১/২ দিয়ে প্রথম বার শেয়ার কিনি, বাকি টুকু দিয়ে আরও ২-৩ কিনি। এপ্রিল – মে মাসের মূল্য পতনের সুযোগ নিয়ে বাকি অর্থেক টাকায়, ৬১ ও ৫৭ মূল্যে আরও কিছু শেয়ার কিনি, ফলে আমার গড় ক্রয় মূল্য দাড়ায় ৬৬ টাকা।

আর   প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই এর শুরুতেই কোম্পানিটি ৩৫% ক্যাশ ও ১০% স্টক বোনাস ঘোষণা করে। ভাল বোনাস আসায় দাম আমার এনালাইসিস মতই ৭৮-৮০ রেঞ্জে চলে আসে। ফলে এই ট্রেডটি থেকে আমার মুনাফা হত প্রায় ১৯% যদি আমি বিক্রি করে দিতাম।

তবে ১৯% মুনাফা তুলে না নিয়ে তা আমি আবারো বিনিয়োগ করার স্বীদ্ধান্ত নিয়ে বোনাস গ্রহন করেছি। ইনশাল্লাহ আগামী বছর আরও ভাল কিছু হবে, আর যদি না হয় তবে সব বিক্রি করে দিয়ে লাভ তুলে নেবার সুযোগতো আছেই।