বিষয় সন্ধান

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

বাংলাদেশের আইএমএফ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পাওয়া নিশ্চিত

 


সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইএমএফ আজ নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেতে যাচ্ছে। যা আগামী ৪২ মাসে সমান ৭ কিস্তিতে দেয়া হবে । চলমান আর্থিক সংকটে বাংলাদেশের এই ঋণ প্রাপ্তি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এটা সুখবর।

তবে অন্যান্য অর্থ সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আইএমএফ এর পার্থক্য হল ঋণ দেয়ার পাশাপাশি তারা ঋণ গ্রহীতা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য কাজ করে থাকে। ঠিক যেমনটা এবারের ঋণ অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশকে ত্রিশ টি সংস্কার মূলক পদক্ষেপ নেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। সবগুল শর্ত জানা না গেলে ও দেশের পত্র-পত্রিকায় বেশ কিছু এসেছে । এগুলোর মধ্যে উল্লেখুযোগ্য হল -   

১) জ্বালানিতে ভর্তুকি কমিয়ে আনা এবং ডায়নামিক প্রাইসিং চালু করাঃ  এতে সামনের দিন গুলতে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরো কিছুটা বাড়বে। এই খাতে দেয়া সরকারের ভর্তুকি কমে আসবে।
২) ব্যাংক ঋণের সুদ হার বাজার ভিত্তিক করাঃ   এতে ৬-৯ সুদ হার কার্যত উঠে যাবে। লিকুইডিটি ক্রাইসিস চলমান থাকায় স্বল্প মেয়াদে সুদ হার বাড়বে।
৩) ডলার রেট বাজারের উপর ছেড়ে দেয়াঃ  দেশের ফরেন রিজার্ভের উন্নতি না হলে আগামীতে টাকা হয়তো আরো কিছুটা মূল্য হারাবে।

ছোট বড় মিলিয়ে এমন আরো ২৭টি সহ মোট ৩০টি রিফর্ম করার অংগিকার বাংলাদেশ করেছে। যা বাস্তবায়ন হবে আগামী ৪২ মাসে। মোদ্দা কথা আগামী ৬-৯ মাসে অনেক পলিসি রিফর্ম আসবে। কিছু রিফর্ম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিছু কিছু ব্যবসার জন্য এই পরিবর্তন গুলোর সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে। স্বল্প মেয়াদে মুনফা কমে যেতে পারে, এমনকি এক-দুই প্রান্তিকে লস ও হতে পারে। পরিবর্তনের এই সময়টা কষ্টে-সৃষ্টে পার হতে পারলে ধীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক খাতে আনা  রিফর্মগুলোর সুফল মিলবে নিশ্চিত।

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভ এবং দেউলিয়া ভীতি

মার্চ ২০২০ বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভ মোটামুটি ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ঠিক এই সময়টাতেই দুনিয়া গ্রাসী মহামারীতে লক-ডাউনে যেতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। সারা বিশ্ব একে অপরের সাথে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তিন মাস পারে এসে জুলাই থেকে বাংলাদেশ লক-ডাউন তুলে নিয়ে তার ইকোনমি ধীরে ধীরে চালু করে। ইকোনমি চালু করলেও তার আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায় কারণ ভারি মেশিনারি সাপ্লাই দেয়া চায়না কার্যত বন্ধ। বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় মানুষের চিকিৎসা এবং আনন্দ ভ্রমন জনিত বিদেশ গমন বন্ধ। আমদানি যা হয়েছে তা ছিল মূলত গার্মেন্টস এক্সপোর্ট জনিত কাচামাল এবং খাদ্যপন্য আমদানি।

বিপরিতে চায়না, ভিয়েতনাম লক-ডাউনে থাকায় আমদের গার্মেন্টস এক্সপোর্ট বাড়ছিল। মহামারীতে দেশের আত্নীয় স্বজনকে সহায়তা করার জন্যে বিদেশে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা অনেক বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। হুন্ডি কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে আসায় রেমিটেন্স ও বেশি এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্যে এবং মহামারী মোকাবেলায় বেশ বড় অংকের লোন প্লাস গ্রেন্ট পায় আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা থেকে। ফলাফল মাত্র ১.৫ বছরে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার! আমদানি কম হওয়া, বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকা, বেশি রেমিটেন্স আসা এবং বিদেশি লোন-গ্রেন্ট পাওয়ায় মাত্র পনেরো মাসে ফরেন রিজার্ভ বাড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারি এমনিতেই সাপ্লাই চেইন ডিজরাপশন করে দিয়েছে। তার সাথে ফেব্রুয়ারী ২০২২ থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেইন রাশিয়া যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে পন্যদ্রব্য, শিল্প কাচামাল এবং জ্বালানী সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন এবং অন্যান্য দেশ লক-ডাউন থেকে বেরিয়ে আসায় পুরোদমে আমদানি-রফতানি চালু হওয়ায় শিল্পের কাচামালের পাশাপাশি ১.৫ বছর বন্ধ থাকা মেশিনারি ইম্পোর্ট শুরু হল। দেশে বিদেশে বিমান যোগাযোগ শুরু হওয়ায় হুন্ডি যেমন বেড়েছে তেমন মানুষের বিদেশ ভ্রমন ও বেরে যায়। গত এক বছরে ১০ লাখ বাংলাদেশি ভারত সহ অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেছেন। যার মধ্যে ৬ লাখের গন্তব্য ছিল ভারত। যদি গড়ে ৫০০ ডলার ও তারা খরচ করে থাকে তবে এখানেই চলে গেছে অর্ধ বিলিয়ন ডলার। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে। আমাদানির চাইতে রফতানি কম হয়েছে। যাতে রিজার্ভ নেমে গেছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

অর্থাৎ করোনার শুরুতে ৩৩ বিলিয়নের রিজার্ভ এখন ৪০ বিলিয়ন আছে। কিন্তু তার পরেও আমরা বাংলাদেশি জনগন ২ বছর আগের চাইতে বেশি আতংকে আছি। কারন সারা দুনিয়াতে চরম ইনফ্লেশন দেখা দিয়েছে। ডলার বিগত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে আছে। দেশি কারেন্সি টাকা ১৫% মুল্য হারিয়েছে। খরচ বাড়লে তার বিপরিতে করার মত দুইটা কাজ থাক - ১) আয় বাড়ানো ২) খরচ কমানো। চাইলেই যেহেতু সরকার টেক্স বাড়িয়ে এবং রফতানি বাড়িয়ে তার আয় বাড়াতে পারে না, সেহেতু বাংলাদেশ সরকার খরচ কমানোর পথ ধরেছে।

- প্রথমে বিলাসি পন্য আমদানির এলসি মার্জিন বাড়িয়ে তা নিরুৎসাহিত করেছে।
- বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্প গুল ৩ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সি ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে
- তেল-গ্যাস ব্যবহার কমানোর জন্য স্পট থেকে এলএনজি ইম্পোর্ট বন্ধ করেছে। দেশে অফিশিয়ালি ১-২ ঘন্টা লোডশেডিং শুরু করে কিছু টাকা সাছ্রয় করার চেষ্টা করছে।
- সর্বশেষ দেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে এই খাতে দেয়া ভর্তুকি বন্ধ করেছে।
★ সামনে হয়ত বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সেখানে দেয়া ভর্তুকি ও কমিয়ে আনবে।

অর্থাৎ সরকার ভাল ভাবেই চেষ্টা করছে শ্রিলংকার অবস্থায় না যেতে। ইতিমধ্যেই বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ এর কাছে সরকার ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের লাইন অফ ক্রেডিট নেয়ার আলোচনা শুরু করেছে। যদিও অনেকেই এটাকে বেইল আউট বলছে। সাম্প্রতিক জ্বালানির ৫০% দাম বাড়ানোকে এই ঋণ নেয়ার সাথে কানেক্ট করেছে। তাদের এই চেষ্টা দেখে দুঃখের মধ্যেও হাসি পায়। গরিব-ধনী দুনিয়ার প্রতিটা দেশের জ্বালানি মূল্য যে স্তরে আছে বাংলাদেশ তার ভর্তুকি দেয়া জ্বালানী মূল্য সেই লেভেলে নিয়ে এসেছে। দুনিয়ার সব দেশের জ্বালানি মূল্য কি আইএমএফ এর ঋন নেয়ার জন্য বেড়েছে। সব দেশ কি আইএমএফ এর বেইল-আউট চাইছে? বাস্তবতা হল জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন বৈশ্যিক বাস্তবতা। তেলের উপর ভেসে থাকা দেশগুলোতে ও জ্বালানি এখন আর সস্তা জিনিস না।

তো বাংলাদেশ ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের লাইন অফ ক্রেডিট কেন নিতে চাইছে? বাংলাদেশ এই ঋণটা নিতে চাইছে অদূর ভবিষ্যতে প্রস্তুত থাকার জন্য। বেইল আউট প্যাকেজ নেয়া হয় দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য এবং ঋণ শোধ করার জন্য। এই ঋণ জরুরি ভিত্তিতে দেয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রিলংকা এবং পাকিস্তান এই ঋন নেয়ার জন্য দাতা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনায় আছে। আর লাইন ক্রেডিট মুলত ঋনের অগ্রীম লিমিট নিয়ে রাখা যা ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নেয়া হবে। বাংলাদেশ আগামী ৪ বছরের জন্য এই ঋনের লিমিট নিয়ে রাখতে চাইছে যাতে দরকার পড়লে টাকাটা নিতে পারে। আর দরকার না পড়লে নিবে না। অর্থাৎ এটা পূর্ব সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা। ইউক্রেন যুদ্ধ কবে থামবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। তার উপর যদি চায়না-তাইওয়ান যুদ্ধে জড়ায় তবে বিশ্ব পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারন করবে। সুতরাং খরচ কমানো এবং সতর্ক হওয়ার বিকল্প কিছু নাই।

আমাদের যা রিজার্ভ আছে এবং সর্কতামূলক যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাতে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে আশাবাদী এই চেলেঞ্জ বাংলাদেশ বেশ ভাল ভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে। প্রয়োজন হলে আরও কঠিন পদক্ষেপ হতয় দেখতে হতে পারে । তবে আমরা ধান-চাল, মাছ-সবজিতে প্রায় সয়ংসম্পুর্ণ। সুতরাং দেশের ভেতরে বড় বন্যা-ঘূর্নীঝড়ের মত প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না হলে আমাদের না খেয়ে দূর্ভিক্ষে পড়তে হবে না। যা শ্রিলংকার লোকজনের ক্ষেত্রে হচ্ছে। বাবা-মা না খেয়ে তিন বেলার জায়গায় এক বেলা বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার আরো কিছু সেক্টরে ভর্তুকি কমিয়ে দিলে দেশের জনগন হিসেবে আমাদের কষ্ট নিশ্চিত ভাবেই আরো কিছুটা বাড়বে। আমাদের অর্থনীতি ২/৩ বছর আগের মত আরাম আয়েশ করার মত অবস্থানে নাই, চেলেঞ্জে পড়েছে। আর চেলেঞ্জিং টাইমে সরকার ও ডেস্পারেট মুভ করবে।

ডেস্পারেট টাইমস কল ফর ডেস্পারেট মেজার্স। বি প্রিপেয়ার ফর ইট।

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

মুদ্রানীতি ২০২২-২৩


বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য
নীতিনির্ধারণী সুদহার বা রেপো রেট ৫% থেকে বাড়িয়ে ৫.৫০% শতাংশ করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এছাড়া বেসরকারি ঋন প্রাবাহের লক্ষমাত্র গত বারের ১৪.৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪.১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত দুই বছরের সম্প্রসারণশীল মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার সংকচন মূলক মূদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ অবস্থায় এমন স্বীদ্ধান্তে ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট বাড়ার কথা। কিন্তু ৬-৯ ফিক্সড রেট ক্যাপের কারণে সেই সুযোগ নাই। ফলে এক দিকে গ্রাহরা মাত্র ৯% সুদে ঋণ পেলেও ব্যাংক কম সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ধার করতে পারবে না।  এতে  ঋণ দেয়ার বেপারে ব্যাংকগুল আগের চাইতে অনেক বেশি রক্ষণশীল আচরণ করবে।

অন্য দিকে দেশে চলমান ইনফ্লেশন এখন অনেকটা ইম্পোর্ট ড্রিভেন ইনফ্লেশন হয়ে গেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে পন্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধি জনিত ইনফ্লেশন। সুতরাং ইউক্রেনে যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকলে ইনফ্লেশন কমে আসার সম্ভাবনা কম নিকট ভবিষ্যতে।

ইনফ্লেশনের কারণে এমনিতেই লোকজন সেভিংস ভেংগে খরচ করছে। ফলে ছোট ছোট ব্যাক্তিগত ব্যাংক ডিপোজিট দিন দিন কমে যাচ্ছে। আবার যাদের হাতে যথেষ্ট অর্থ আছে তারাও ব্যাংকে ডিপোজিট রাখতে চাইছেন না কারন ইনফ্লেশন এডজাস্ট করলে ব্যাংক ডিপোজিটের রিয়েল রিটার্ন নেগেটিভ। তারা নিশ্চিত ভাবেই বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের সন্ধানে আছেন।

উন্নত বিশ্ব এখন তাদের ইন্টারেস্ট রেট বাড়াচ্ছে ইনফ্লেশনকে কন্ট্রোল করার জন্য। আর এতে করে তাদের অর্থনীতিতে স্টেগফ্লেশন এমন কি ডিপ্রেশন, রিসিশন এর আশংকা জেগেছে। ফলে সেখানে কস্ট কাটিং শুরু হয়ে গেছে। এতে আমাদের ফরেন রেমিটেন্সের গ্রোথ কমে আসবে। এমন কি গার্মেন্টস এক্সপোর্ট গ্রোথ ও কাংখিত মাত্রায় না হবার সম্ভাবনা আছে। ফলে দেশে ডলার ক্রাইসিস ও সহসা কাটবে বলে মনে হয় না।

সব মিলিয়ে আমার ধারণা আগামী ৬-১২ মাস আমাদের মানি মার্কেটে টাইট সিচুয়েশ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং কমার্শিয়াল ব্যাংকগুল ঠিক ভাবে তারল্য পরিস্থিতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পতন সামলাতে না পারলে সমগ্র ব্যাংকিং সিস্টেমে অথবা ছোট-মাঝারি ব্যাংক গুলাতে লিকুইডিটি ক্রাইসিস ও দেখা দিতে পারে।

 

সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

পুজিবাজারে শ্রীলঙ্কা ভীতিঃ গুজব এবং বাস্তবতা

 



সাম্প্রতিক সময়ে পুজিবাজার সংশ্লিষ্ট সোশাল মিডিয়া গ্রুপগুল বেশ  সরগরম - ইস্যু হল বাংলাদেশ কি নেক্সট  শ্রিলংকা হতে যাচ্ছে ?  এক দল শ্রিলংকার চাইতে ও ভবিষ্যতে দেশের খারাপ পরিনতি দেখছেন। আরেক দল বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে বলছেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক বেশী শক্তিশালী। সুতরাং নো চিন্তা ডু ফুর্তি।

এটা সত্যি যে আমাদের বর্তমান অবস্থা আশেপাশের দেশ যেমন শ্রিলংকা, পাকিস্তান, নেপালের তুলনায় ঢের বেশি ভাল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্যয়িক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পন্য-দ্রব্যের উচ্চ মূল্য নাজুক অবস্থা তৈরি করেছে বাংলাদেশের জন্য।

২০২০-২১ এর তুলনায় এই বছরে  (২০২১-২২) দেশের রফতানি বেরেছে প্রায় ৩৫%! যা খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে আশংকার জায়গা তৈরি করেছে আমদানি খাত। এই সময়ে রফতানির চাইতে আমদানি বেশি হয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। মানে ট্রেড গ্যাপ হয়েছে মাইনাস ১৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের কপাল ভাল যে ফরেন রেমিটেন্স এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে রফতানির পাশাপাশি ৮ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে এই গ্যাপ পূরণে অর্থাৎ কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। ফলাফল আমাদের ফরেন রিজার্ভ ৪৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪২ বিলিয়নে নেমে এসেছে। আবার এই ৪২ বিলিয়ননের মধ্য থেকে ৭ বিলিয়ন প্রকৃত পক্ষে কোন রিজার্ভ না। এই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের রফতানি উন্নয়নে (ইডিএফ)  বিভিন্ন রফতানি কারককে কম সুদে ঋন হিসেবে দিয়ে থাকে। অর্থাৎ এটা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এবং রফতানি পন্যের কাচামাল আমদানির জন্য সরকারের কাছে ফরেন রিজার্ভ এভেইলেবল আছে প্রায় ৩৪ বিলিয়নের মত। যা দিয়ে মোটামুটি পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব । 

করোনা পরবর্তী কালে আমজনতা যেমন বেতন না বাড়লেও নিত্য পন্যের দাম বাড়ায় নাকাল। ঠিক একই ভাবে রফতানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় সরকারও ফরেন রিজার্ভ নিয়ে বেকায়দায় আছে। যদি লাগাম ছাড়া আমদানি চলতেই থাকে তবে আমাদের ফরেন রিজার্ভ রেড জোন (৩ মাস বা তার কম আমদানি ব্যয় মেটানর মত অর্থ)  ২৪  বিলিয়নে নেমে আসবে ৮-১০ মাসের মাধ্যেই। সুতরাং ডলার খরচ করায় সাবধানী হওয়ার বিকল্প কিছু নাই। সরকার ইতিমধ্যেই বিলাসি পন্যের এলসি মার্জিন ৭৫% পর্যন্ত করেছে যাতে আমদানি নিরুতসাহিত হয়। ডলার খরচ হবে এমন অগুরুত্বপূর্ণ/কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে। সাথে সরকারি আমলাদের বিদেশ ভ্রমণে লাগাম দিয়েছে।

পত্রিকাগুল  নিউজ করেছে যে  প্রাইভেট ব্যাংক গুল ৯৩-৯৫ টাকায় ( ডালার মূল্য) এলসি করছে করছে। কারন আর কিছুই নয় ব্যাংকগুল সরকার ঘোষিত ৭৮ টাকা রেটে ডলার সর্বরাহ করতে পারছে না। এই নাজুক অবস্থা কত দিন চলবে তা নির্ভর করছে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ কখন শেষ হয়। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের অগ্নি মূল যেমন কমবে না তেমন অন্যান্য খাদ্যপন্য, শিল্প কাচামাল এবং পরিবহন জাহাজ ভাড়াও কমবে না।

বাংলাদেশ যেহেতু নেট ইম্পোর্ট কান্ট্রি ( রফতানি আয়ের চাইতে আমদানি ব্যয় বেশি) সেহেতু আমাদের জন্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পন্য-দ্রব্যের দাম বাড়ার ধাক্কা খুব বেশি সময়  বহন করা সম্ভব নয়। বর্তমানে কৃচ্ছতা সাধন করে হয়তো আমদানি কিছু কমানো যাবে কিন্তু তা রফতানি আয়ের সমান বা তার চাইতেও কমানো প্রায় অসম্ভব। সুতরাং যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পন্য মূল্যের অস্বাভাবিক অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আমাদেরকে ও  বিপদে পরতে হবে। ইতি মধ্যেই তার কিছু লক্ষন দেখা যাচ্ছে - যেমন ফরেন রিজার্ভ কমতে শুরু করেছে, ডলারের বিপরিতে টাকার মান কমে যাচ্ছে, দেশে আমদানিকৃত পন্য-দ্রব্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেরে যাচ্ছে। এই সবগুলই একটার সাথে আরেকটা কো-রিলেটেড।

এত বিশাল লেখার সার বক্তব্য একটাই - আমরা এখনই পাকিস্তান কিংবা নেপাল হয়ে যাই নাই যে ঋণের জন্য হচ্ছে হয়ে দেশে বিদেশে হাত পাততে হচ্ছে। রিজার্ভ শুন্য হয়ে লেবানন, শ্রীলঙ্কার মত দেউলিয়া হয়ে যাই নাই যে জালানি তেল, ঔষধ, খ্যাদ্যের মত অতি জরুরী পণ্য আমদানি করার সামর্থ নাই। তবে বৈশ্যয়িক টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়ে আপাতত কিছুটা বেকায়দায় আছি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে ফলে সঞ্চয় আশংকাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে। ডলার খরচে কিপটামি করে হয়তো কিছুটা সামাল দেয়া যাবে। তবে ইউক্রেইন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং আমদানি পন্যের অগ্নিমূল্য অব্যাহত থাকলে আমাদেরকেও কিছু ঝড়-ঝাপটা সহ্য করতে হতে পারে। তাই এখনই আতংকিত হওয়ার যেমন কিছু নাই তেমন নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকার মত পরিস্থিতিও নাই। অতএব সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে, পূর্ণ মাত্রায় সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে ।

সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২

এপ্স রিভিউঃ লংকাবাংলা ট্রেডএক্সপ্রেস


 
LankaBangla TradeXpress- এটি গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করছি। নতুন এপ্স হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বেশ ভাল। অন্তরত ডিএসই মোবাইল থেকে এটি এগিয়ে আছে নিঃসন্দেহে। মূলত ডিএসই মোবাইল এপ্স এর মতই ট্রেড এক্সপ্রেস ও মোবাইল এবং ডেস্কটপ দুই প্লাটফর্ম থেকেই ব্যবহার করা যায়।

প্রথম যে ফিচারটি ভাল লেগেছে তা হল ট্রেড এক্সপ্রেসের সিম্পল লগিন ম্যাকানিজম। কিছুক্ষণ পর পর অটো লগ-আউট হয়ে যায় না। আবার প্রতি ট্রেড কনফার্মেশনেই পাসওয়ার্ড দেয়ার ঝামেলা নাই। শুধু তাই না মোবাই সেট পরিবর্তন করলে অথবা পাসোয়ার্ড ভুলে গেলে অতি সহজেই পাসোয়ার্ড রিসেট করা যায়, নতুন ডিভাইস রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় না

দ্বিতীয় যে ফিচারটি পছন্দ হয়েছে তা হল ডুয়াল মার্কেট এক্সেস। এক এপ্স দিয়েই DSE এবং CSE তে লেনদেন এবং মার্কেট মনিটর করা যায়। ফলে অনেক সময় দুই মার্কেটে থাকা প্রাইস ডিফারেন্স এর সুযোগ ক্রয়-বিক্রয় কালে নেয়া সম্ভব। বাই-সেল এ অনেক সময় দুই বাজারে ৫০ পয়াসা থেকে এক টাকা পর্যন্ত মূল্যের তারতম্য আমি দেখেছি। আবার যেহেতু দুই বাজারের ইনফরমেশনই এক এপ্সে আসে সেহেতু মার্কেট টাইমে আসা নিউজ গুল অনেক সময় আগে পাওয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায় কর্পোরেট ডিক্লারেশন CSE তে এলেও DSE তে আসে ১/২ ঘন্টা পারে। ফলে যে মার্কেটেই কর্পোরেট ডিক্লারেশন আসুক আপনি আপডেট থাকবেন।


তৃতীয় যা ভাল লেগেছে তা হল এর কাস্টমাইজড ডেশ বোর্ড। টপ-টেন মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির লিস্ট এর পাশাপাশি সেক্টর ওয়াইজ স্টকের লিস্ট দেখা যায়। চাইলে একাধিক ওয়াচ লস্ট তৈরি করে সেভ করা যায়। কোন স্টক ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ/সর্বনিম্ন দামে ট্রেড হলে সেই ইন্ডিকেশন ও দেয়।


চতুর্থ যে জিনিসটা ভাল লেগেছে তা হল এর অর্ডার প্লেস করার অপশন। বর্তমানে লিমিট এবং ডে অর্ডার এক্ট্রিভেট আছে। ডিএসই থেকে অনুমোদন পেলে এডভান্সড টাইম বাউন্ড অর্ডার এবং স্টপ-লস অর্ডার ও চালু হবে। অর্ডার প্লেস করার পরে তা মডিফাই করা যায়। ডিএসই মোবাইলের মত পুরোনো অর্ডার কেন্সেল করে আবার নতুন অর্ডার দেয়ার প্রয়োজন নাই। চাইলে ড্রিপে অর্ডার বসানো যায়। এমন কি বাই-সেল অর্ডারের পেছনে কত জন বায়ার সেলার আছে তাও দেখা যায়!!


শুধু ভাল লাগার কথা বললে রিভিউটা এক পেশে হয়ে যাবে। সুতরাং সমস্যার কথাও বলতে হবে। শুরুতেই এক নম্বর ভাল লাগা হিসেবে বলেছিলাম সিম্পল লগিং এর কথা। ১০-২০ মিনিট আইডেল থাকলেও এপ্স অটো লগ-আউট হয়ে যায় না। এটা যেমন সুবিধা তেমন এর কারণে অসুবিধাও আছে। অনেক ক্ষণ আইডেল থেকে তার পরে অর্ডার প্লেস করলে তা প্লেস হয় না (সম্ভবত আইডেল থাকার কারনে বেক এন্ডে কানেশন লস হয়)। সুতরাং অর্ডার দেয়ার পরে অর্ডার ঠিকঠাক প্লেস হল কি না তা আলাদা উইন্ডো থেকে দেখে নিতে হয়। অর্ডার প্লেসে সমস্যা হলে আবার লগ-আউট লগ-ইন করে নিলে সমস্যা সলভ হয়।


দ্বিতীয় যা সমস্যা মনে হয় (যদিও এটা ঠিক সমস্যা না) তা হল এক জায়গায় অনেক বেশি তথ্য-উপাত্ত থাকায় নতুন ব্যবহারকারীরা খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। তবে ব্যবহার করার সাথে সাথে ইউন্ডো গুলোর সাথে পরিচিত/অভস্ত হয়ে গেলে তা অনেকাংশে কেটে যাবে আশা করা যায়। আমি দুই সপ্তাহ আগের চাইতে এখন অনেক বেশি কম্ফোর্ট ফিল করছি।


যেহেতু নতুন এপ্স এবং আমি নিজেও নতুন ব্যবহারকারী যেহেতু আরও অনেক সুবিধা/অসুবিধা থাকাতে পারে যেগুল আমার নজড়ে পড়ে নাই। ডিএসইর মোবাইল এপ্স ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে ৩/৪ বছর লেগেছে। তার পরে ও ডিএসইর মোবাইল এপ্স নিয়ে অভাব অভিযোগ এখনো আছে । যদি লংকা-বাংলা ইউজার ফিডব্যাক নিয়ে এপ্স এর ডেভেলপমেন্ট চালিয়ে যায় তবে আশা করা যায় এটি ভাল একটি অনলাইন ট্রেডিং প্লাটফর্ম হতে পারবে। এই এপ্সের যাত্রা সবে শুরু হয়েছে আশা করি সময়ের সাথে সাথে এপ্সটি উত্তর উত্তর বিকশিত হবে।

সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মার্কেট কারেকশনে দায় কার?



মার্কেট পড়লেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে শুরু হয় কারণ খোঁজার হিড়িক। শেষ পর্যন্ত দায় চাপে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কর্তা ব্যাক্তির কাঁধে। কিন্তু শুধু 

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কেন একা দায়ী হবেন ? বস্তুত  সারা মার্কেট ২৪ ঘন্টা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আমার-আপনার মত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর পুজি খেয়ে ফেলার জন্যে। নিজের পুজি রক্ষা করে বাজার থেকে মুনাফা তোলাই সবার চূড়ান্ত লক্ষ্য এখানে । সবাই এখানে এসেছে ব্যবসা করতে, চ্যারিটি করতে নয়। সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে ক্যাপিটাল গেইন পাওয়া মানেই অন্য কেউ লস গুলবে। ৯ জন লস গুনলে তবেই ১ জনের মুনাফা হয়। আপনি যদি কোম্পানির ডিভিডেন্ড খেয়ে মুনাফা করতে চান তবে আপনার হিসাব আলাদা। বাকি যারা সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনাবেচা করে ক্যাপিটাল গেইন চায় তাদের জন্য নির্মম সত্য হল - একের পুঁজি অন্যের পকেটে মুনফা হিসেবে জমা হয়। 

সুতরাং বিএসইসি চেয়ারম্যান, কমিশনার,  ডিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইন্সটিটিউট, মামু, ফেসবুক এডমিশন, আইটেমবাজ, প্যানিকবাজ - এত লোকের দোষত্রুটি খুজে বেড়ানো নিস্ফল কর্ম। সবাই যার যার চরিত্রে অভিনয় করছে মাত্র। আপনি কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন তা বেছে নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার ।

২০২০ সালে ২২% এবং ২০২১ সালে ২৫% গেইন দিয়েছে পুঁজি বাজার। যার বীজ বপন করা হয়েছিল ২০১৮-১৯-২০ এর প্রথম ভাগ পর্যন্ত টানা ২.২৫ বছর পতন ঘটিয়ে ইন্ডেক্স ৩৬০০ নামানোর মধ্য দিয়ে। বিএসইসি তে নতুন কমিশন আসার পর সেই ইনডেক্স ৩৬০০ থেকে ৬০০০  হয়েছে। প্রায় ২৪০০ পয়েন্টের
র‍্যালির পার আমরা আবার ৯০০ পয়ন্ট এর কারেকশন দেখেছি। ঐ পতন ছিল পরবর্তী ২৩০০ পয়েন্ট র‍্যালির (৫১০০ টু ৭৪০০) পূর্ব প্রস্তুতি।

আমার ব্যাক্তিগত বিশ্বাস এবারের ৭৪০০ থেকে ৬৬০০ হয়ে যাওয়া ৮০০ পয়েন্টের কারেকশন হল ভবিষ্যৎ র‍্যালির আতুর ঘর।আমার-আপনার যথেষ্ট পুজি এবং ক্ষমতা নাই মার্কেটে টার্গেটকৃত ষ্টকের দাম কমিয়ে পজিশন নেয়ার। কিন্তু যাদের সেই ক্ষমতা আছে তারা সময় সুযোগ পেলে তা মোক্ষম ভাবে কাজে লাগাবে - এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। পার্ট অফ মার্কেট ম্যাকানিজম। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, ৮৫০০ কোটি নেগেটিভ ইক্যুইটি ডিসেম্বর ২০২২ এ শূন্যে নামানোর আল্টিমেটাম কিংবা মার্কেট প্রাইসে এনবিএফআই এক্সপোজার গননায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার - এই সবই সেই উপলক্ষ মাত্র। 

প্রানীজগতে যারা পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলতে পেয়েছে তারাই টিকে গেছে, বাকিরা সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের তেলাপোকা টিকে থাকলেও বিশাল আকৃতির  ডাইনোসর, ম্যামথরা হারিয়ে গেছে। সার্ভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট - এই মন্ত্র দুনিয়ায় সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পুজিবাজার ও তার ব্যাতিক্রম কিছু না।

৮০০ পয়েন্টের পতনে নিশ্চিত ভাবেই আমরা কমবেশি সবাই লস গুনেছি। কিন্তু শোকর আলহামদুলিল্লাহ মার্কেট আউট হয়ে যাই নাই। এই মুহুর্তে করনীয় কি? মূল্য পতনকে যথা সম্ভব কাজে লাগানো। টাকা থাকলে কিনতে হবে যাচাই-বাছাই করে। আর ক্যাশ না থাকলে প্ল্যান করতে হবে পরের র‍্যালিতে বর্তমান আন-রিয়ালাইজ লসের চাইতে বেশি রিয়ালাইজড গেইন কি ভাবে হবে।
বাজারে বছর জুড়ে থাকতে হলে ঋতু ভেদে লস গুনতে হবে আবার লাভ ও হবে। প্রথম লক্ষ - পুজি হারিয়ে মার্কেট আউট হয়ে যাওয়া যাবে না। আর দ্বিতীয় লক্ষ - লাভের চাইতে কম লস করা। তবেই লম্বা সময় টিকে থাকা সম্ভব। আর টিকে থাকতে পারলে মুনাফা হবেই - কম অথবা বেশি।

রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

ডিভিডেন্ড নিয়ে হতাশা

ডিভিডেন্ড মৌসুম চলছে। স্বভাবতই বিনিয়োগকারীগন বিভিন্ন কোম্পানির ডিভিডেন্ড নিয়ে হতাশ। কেউ কেউ আবার উচ্চসিত।  ১৯ টাকা আয় করে UPGDCL দিল ১৭ টাকা। ডিভিডেন্ড দেখে খুশি হলেও সেই কোম্পানির বিনিয়োগ কারীরা হতাশ কারন মার্কেট রিয়েকশন হয়েছে উলটো। দাম পড়ে গেছে ১৬ টাকা। সম্ভব বছর জুরে সাব-সিডিয়ারি গুলোর মোটা অংকের ডিভিডেন্ড ঘোষণা দেখে অনেকে ধারণা করেছিলেন ইপিএস হয়তো ৩০-৩৫ টাকা হবে, অনেক বেশি ক্যশ ডিভিডেন্ড অথবা স্টক বোনাস আসবে। কিন্তু কোম্পানিটি শুধু এই বছরের আয়ের উপর ডিভিডেন্ড দিয়েছে। বাকিটা যোগ করেছে রিজার্ভে।

আরেক কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট বছর জুড়ে ভাল ভাল কোয়ার্টারলি ইপিএস রিপোর্ট করেছে। এনুয়াল আর্নিং ও বেশ ভালই এসেছে। গত বছরে ৬ টাকার বিপরীতে এই বছর প্রায় ১৬ টাকা দেখিয়েছে ( যদিও প্রত্যাশা ছিল ১৮+)। কিন্তু গোল বেধেছে ঘোষিত ডিভিডেন্ড নিয়ে। ১৬ টাকা আয় করে দিয়েছে মাত্র ২.৫ টাকা!

খালি চোখে এটাকে স্রেফ চুরি-ডাকাতি মনে হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বঞ্চিত, প্রতারিত ও ভাবতে পারেন। তাদের এই অবস্থাকে আমি ভুল চিন্তা ও বলব না। নিশ্চিত ভাবেই তারা প্রাপ্য ডিভিডেন্ড পায় নাই। তবে আমার কাছে এটা তাদের সর্ট-টার্ম নগদ প্রাপ্তির চিন্তা ভাবনা মনে হয়।

এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হল - বিনিয়োগকারী হিসেবে আমার, আপনার দেখা উচিত কোম্পানি এই রেখে দেয়া টাকায় রিজার্ভ বারিয়ে করছে টা কি? সে কি ব্যবসা বড় করার জন্য রি-ইনভেস্ট করছে? অতীতে এই ধরনের রি-ইনভেস্ট যদি করে থাকে তা দিয়ে কি প্রফিটিবিলিটি বাড়াতে পেরেছে? যদি পেরে থাকে তবে তাদের ডিভিডেন্ড পে-আউট কমিয়ে দেয়ায় হতাশার কিন্তু নাই। আমি-আপনি ১/২ বছরের চিন্তা করলেও ঐ ধরনের গ্রোথ কোম্পানিগুল ৫/১০ বছর মেয়াদি লং-টার্ম চিন্তা থেকে রি-ইনভেস্টে যায়। আজকে যে টাকা ডিভিডেন্ড না দিয়ে রেখে দিল তার ফল হয়তো ২/৪ বছর পরে আসবে। এমন ক্ষেত্রে আমাদেরকে ও ঐ কোম্পানিতে লং-টার্ম চিন্তা ভাবনা করে ইনভেস্ট করতে হবে।

আমাদের বাজারের স্কয়ার, রেনেটা কিংবা অলেম্পিক - এভাবেই আয়ের তুলনায় কম ডিভিডেন্ড দিয়ে সেই টাকা রি-ইনভেস্ট করে আজকের অবস্থানে এসেছে। আবার বিপরীত চিত্র ও আছে। ভাল আয় করা সত্যেও স্টক ডিভিডেন্ড এর নামে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা রেখে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকায় ব্যবসা আর বড় করতে পারে নাই। ক্ষেত্র বিশেষে লুটপাট হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্টিভ ফাইনের অতীত দেখা যেতে পারে।

বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের বার্ক শায়ার হ্যাতওয়ে সারাজীবনে মাত্র এক বার ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এবং সেই ডিভিডেন্ড দেয়াটাকেও বাফেট নিজের ভুল স্বীদ্ধান্ত মনে করেন। কারন তার ভাষায় ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগকারীরা হয়তো পিকনিকে যাবে, কেউ গাড়ি-বাড়ি কিনবে। কেউ কেউ হয়তো বার্কশায়ারের শেয়ারই আরেকটু বেশি করে কিনবে। কিন্তু আমি যদি সেই টাকা রেখে দিয়ে কয়েক বছরে দুই-তিন গুন করে দিতে পারি তবে গাড়ি-বাড়ি বা ভ্যাকেশনে খরচ করার চাইতে সেটা বেশি লাভ জনক হবে।

হ্যা আমাদের বাজারে হয়তো বাফেটের মত স্মার্ট ওয়েলথ ম্যানেজার নাই, যারা দুই বছরে আমার-আপনার টাকা ডাবল করে দিবে। তবে স্কয়ার, রেনেটা, অলিম্পিকের মত কিছু কোম্পানি আছে যা ছোট থেকে আজকে জায়ান্ট হয়েছে মূলত আয়ের পুরোটা ডিভিডেন্ড না নিয়ে রি-ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে।
তাই কম ডিভিডেন্ড পেলে আপনি হতাশ হতে পারেন। কিন্তু তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নাই যদি আপনার কোম্পানি রেখে দেয়া টাকায় পরের বছর গুলতে তার ইপিএস, এনেভি তে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উন্নতি ঘটাতে পারে।



পরিশেষে সেই ১৬ টাকা আয় করে ২.৫ টাকা দেয়া কোম্পানির কিছু অতীত রেকর্ড আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। অতীতে ঐ কোম্পানি ৬-৭-১০ টাকা ইপিএস দেখিয়ে কোন বারই ২/৩ টাকার বেশি দেয় নাই। রেখে দেয়া টাকা প্রতিবার রি-ইনভেস্ট করেছে। যার ফলাফল হল মাত্র ৩৬ কোটি মুনাফা করা কোম্পানি এই বছর ১২৫ কোটি মুনাফা করেছে। এবারো বড় অংকের টাকা ডিভিডেন্ড না দিয়ে রেখে দিয়েছে। অতীত রেকর্ড ঠিক থাকলে যার ফল হয়তো আগামী ৩/৪ বছর পরে পাওয়া যাবে। ১০০% পাওয়া যাবেই সেই গেরান্টি অবশ্য নাই। ব্যবসা মানেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ লাভ-ক্ষতির ৫০-৫০ চান্স। তবে আশাবাদী হই এই কারণে যে যারা ব্যবসায় মনোযোগী তারা সবাধারনত ব্যার্থ হয় না। আগামী বার ও তারা সফল হবে সেই আশা রাখি।
আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি কোম্পানি যদি ৫/১০ গুন বড় হয় তবে বিনিয়োগকারী হিসেবে আমার টাকাও ৫/১০ গুন বাড়বে। তবে তা তখনই হবে যখন কোম্পানির এই অভিযাত্রার পুরোটা সময় আমি সংগি হতে পারব।




বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

মার্কেট মিথ-১: পুজিবাজারে ব্যাংকের ১২০০০ কোটি রেস্কিউ ফান্ড

পুজিবাজারের বিনিয়োগ করা অধিকাংশ লোক জনের ধারনা সরকার/বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেটকে রেস্কিউ করার জন্য ১২০০০ কোটি টাকার ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে । সুতরাং তারা বিনিয়োগ করতে বাধ্য!

অথচ এই ফান্ড গঠনের সার্কুলারে কোন বাধ্য-বাধকতা নাই । এটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক একটা বিনিয়োগ সুবিধা । যা ব্যাংকগুল চাইলে আগামী পাঁচ বছর ( ফেরুয়ারী ২০২৫ পর্যন্ত) এর মধ্যে যে কোন সময় ফান্ড গঠন ও বিনিয়োগ করতে পারবে । টাকা ব্যাংক নিজের পকেট থেকে দিতে পারবে । চাইলে ৫% ইন্টারেস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে ( ব্যাংকের কাছে থাকা সরকারী বন্ড বিল বাংলাদেশ ব্যাংকে  বন্ধক রেখে ) ধার করে আনতে পারবে । উল্লেখ্য সরকারী এই বন্ড বিল থেকে ব্যাংক গুলর বাৎসরিক আয় ৭.৫-৮.৫%

অর্থাৎ টাকা ব্যাংকের নিজস্ব অথবা ধার করা (যার জন্য বছর বছর ৫% সুদ গুনতে হবে ) । এই টাকা কোথায় কখন কি ভাবে বিনিয়োগ করবে তা সম্পুর্ণই ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ার । সরকার/বাংলাদেশ ব্যাংক বড় জোড় অনুরোধ করতে পারে। আদেশ দিয়ে বাধ্য করার কোন নৈতিক বা আইনগত অবস্থান সরকারের নাই । আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত ১৬৫০ কোটির ফান্ড গঠন করেছে ১৮ ব্যাংক । যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ধার দিয়েছে মাত্র ১৩০ কোটি| আর গত ৩-৪ মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ৮০ কোটি ! অথচ পুজিবাজার আশায় আছে ১২০০০ কোটির।

এই ১২০০০ কোটি নিয়ে আরেকটা শুভঙ্করের ফাঁকি আছে । বাংলাদেশে ব্যাংকের সখ্যা যেহেতু ৬০ টি (এখন আরো ২ টা বেড়েছে ) সেহেতু ৬০ গুনন ২০০ হিসাবে ১২০০০ কোটি। কিন্তু বাস্তবতা হল পুজিবাজারে পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট আছে ৩৫ টা ব্যাংকের । ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাংক অফ পাকিস্তান , শিলন ব্যাংক, এইচএসবিসি, স্টেন্ডার্ড চার্টার এর মত ব্যাংকগুলা কোন কালে আমাদের পুজিবাজারে বিনিয়োগ করে নাই আর ভবিষ্যতেও করবে বলে আশা করা যায় না । অন্যদিকে ফার্মাস, পুলিশ ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মত নতুন ব্যাংকগুলাও আপাতাত আসবে না। এরা নিজেরাই এখন পর্যন্ত পুজিবাজারে লিস্টেড না । সুতরাং বাস্তব ধর্মী চিন্তা করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুবিধা নিয়ে পুজিবাজারে ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ কোটি টাকা আসতে পারে ।

তাই রেক্সিউ ফান্ড গঠন করতে হলে সরকারকে নিজের পকেট থেকে টাকা বের করতে হবে । ২০০৮ সালে পাকিস্তান ইনডেক্স ফ্লোর ইম্পজ করার আগে যেমন ২৫০০ কোটির ফান্ড বাজারে এনেছিল । শুধু কথায় আর চিঁড়া ভিজবে না । ভাল কিছু করার নিয়ত থাকলে সরকারকে কাজ করে প্রমাণ দিতে হবে । সরকার নিজের টাকায় কেনা শুরু করলে তবেই বেসরকারি সংস্থা কিনতে আসবে ।

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

পুজিবাজারে বাই ব্যাক আইন ও প্রাসংগিক ভাবনা

পুজি বাজারের বহুল প্রত্যাশিত বাই ব্যাক আইন তৈরি করার কথা জানিয়েছে বিএসইসির একটি সূত্র। এই খবরে বাজারের সবার মত আমিও খুশি।  কিন্তু সবাই যে কারণে খুশি, আমার খুশির কারণ তার চাইতে কিছুটা ভিন্ন।

 সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ধারণা হল বাই ব্যাক আইন হলে তাদের পুজির নিরাপত্তা বাড়বে। কোন কোম্পানি আর ফেসভ্যালুর নিচে যাবে না। যদি কোন স্টেক্ত দাম ফেস ভ্যালুর নিচে নেমে যার তবে কোম্পানিটির পরিচালকগণ সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সেই শেয়ার কিনে নিবে। তাদের এই ধারণা আংশিক সত্য, পুরোপুরি নয়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাই ব্যাক আইন সাধারন বিনিয়োগকারীদের উপকারে আসবে যদি কোম্পানির পরিচালকগন চায়। কিন্তু এই আইন হলেই সবার পুজি নিরাপদ হয়ে যাবে তা না।

আমাদের বাজারে যে সব কোম্পানি এখন ফেস ভ্যালুর নিচে তাদের অধিকাংশের উতপাদন বন্ধ, কোন আয় নেই, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেই, ব্যাংকে জমানো নগদ কাটাও নেই। সুতরাং এসকল কোম্পানিকে বাই-ব্যাক করতে বলা আর শেয়ার হোল্ডারদের সাথে তামাশা করা একই কথা। কারণ শেয়ার বাই ব্যাক করার জন্য যে টাকা দরকার তা কোম্পানির কাছে নাই। টাকা থাকলে কোম্পানির উতপাদন বন্ধ হত না, ব্যাংক ঋণ ও ডিফল্টটেড  হত না। পুজিবাজারে লিস্টেড প্রতিটা কোম্পানি পাব্লিক লিমিটেড কোম্পানি। অর্থাৎ এগুল সীমিত দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান। কোম্পানির দায় মেটাতে তার শেয়ার হোল্ডার বা পরিচালকগন তাদের ব্যক্তিগত অন্য সম্পদ ব্যবহার করতে বাদ্ধ নন। কোম্পানি ঋন খেলাপি হলে অথবা শেয়ার বাই ব্যাক করতে হলে তার জন্য কোম্পানির সম্পদ খরচ করতে পারবে। মালিকরা তার ব্যাক্তিগত সম্পদ/পুজি বিক্রি করে ঋন ফেরত দিবে না অথবা শেয়ার বাই ব্যাক করবে না। তাই ইউনাইটেড এয়ার, কেয়া কসমেটিক্স, আরএন স্পিনিং, এমারেন্ড অয়েল মার্কা কোম্পানির পরিচালকরা তাদের ব্যাক্তিগত বাড়ি, গাড়ি বেচে শেয়ার বাই ব্যাক করবে এমন ধারনার কোন বাস্তব ভিত্তি নাই।

তাহলে বাই ব্যাক আইনের কোন সুফল কি সাধারন বিনিয়োগকারী পাবে না? জি কিছু সুবিধা আছে যা সাধারণত বিনিয়োগকারীর পক্ষে যাবে। যেমন -

  • এই আইন হওয়ার পর বিএসইসি চাইলে নতুন আইপিও, রাইট ইস্যু, এমাল্গেমেশন করতে চাওয়া কোম্পানি গুলাকে শেয়ার বাই ব্যাক করার শর্ত দিয়ে প্রস্তাব পাশ করবে। আইপিও, রাইট ইস্যু করার ৩/৬/১২ মাসের মধ্যে বাজার মুল্য নির্দিষ্ট লেভেলের নিচে নেমে গেলে কোম্পানিকে শেয়ার বাই ব্যাক করতে হবে। এর ফলে আইপিও, রাইটে অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবী করা হ্রাস পাবে।
  • যে সকল কোম্পানির বিশাল ক্যাশ রিজার্ভ/এফডিয়ার আছে কিন্তু তা খরচ করে আয় বাড়ানোর কোন সুযোগ কোম্পানি  পাচ্ছে না,  তারা সেই টাকায় পুজিবাজার থেকে তাদের নিজেদের শেয়ার বাই ব্যাক করে নিতে পারে। এতো কোম্পানির  নেট প্রফিট একই রকম থাকলেও মোট শেয়ার সংখ্যা বা পেইড আপ ক্যাপিটাল  কমে যাওয়ায় পরের বছর কোম্পানির ইপিএস, এনেভি বেড়ে যাবে। তাতে কোম্পানির সকল বিনিয়োগকারী লাভবান হবেন ।  
  • বাজারে অস্বাভাবিক পতন হলে অন্যান্য কোম্পানির সাথে ভাল কোম্পানিগুল দাম হারায় । এখন বাজারে এই ফ্লোর প্রাইস একটিভেট থাকার পড়েও মার্কেট বায়ার লেস কিন্তু কিচ্ছু কোম্পানি আছে যারা এই দামে আন্ডার ভ্যালুড। অথচ নিজেদের লস হবে এই বিবেচনা করে কোন পরিচালক নিজের কোম্পানির শেয়ার কেনার ঘোষণা দিচ্ছে না। অথচ তারা জানে তাদের স্টক আন্ডার ভ্যালুড। বাই ব্যাক আইন থাকলে এই অবস্থায় কোম্পানির পরিচালকরা ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দিয়ে অথবা কম দিয়ে সেই টাকায় পাব্লিক মার্কেট থেকে শেয়ার কিনতে পারবে। এতে এক দিকে মার্কেট সাপোর্ট পাবে, তাদের শেয়ার বাউন্সবেক করবে, বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি শেয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের ইপিএস, এনেভি বেড়ে যাবে। ফলে পরের বছর তারা আরো ভাল ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

মূলত এই বাই ব্যাক আইনের বড় সুবিধা পাবে ভাল লাভজনক কোম্পানির পরিচালক ও তাদের লং-টার্ম ইনভেস্টরগন। মার্কেট কারেকশনে পড়ে তাদের শেয়ার বড় ধরনের মূল্য পতন হলে তারা কোম্পানির শেয়ার খোলা বাজার থেকে কিনে নিয়ে নিজেদের শেয়ারকে সাপোর্ট দিতে পারবে এবং মার্কেট কারেকশনকে কাজে লাগিয়ে তাদের সম্পদ মূল্য ও ভবিষ্যৎ আয় বাড়াতে পড়বে। তাই এই বাই ব্যাক আইন বাজারের ফান্ডামেন্টালি স্ট্রিং, ক্যাশ রিচ কোম্পানিগুলোর মালিক পক্ষ ও তাদের লং-টার্ম ইনভেস্টরদের জন্য মুনাফা বাড়ানোর নতুন সুবিধা নিয়ে আসবে। বিএসইসির এই উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য । 

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

টিকে থাকাই ২০২০ সালের বড় মুনফা

করোনার কারনে দেশে বিদেশে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে অথবা যাবে অদূর ভবিষ্যতে। জেসি পেনি, পিকক এর মত টপ ইন্টারন্যাশনাল ব্রেন্ড এই কোভিড-১৯ এর কবলে পড়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এদের সাপ্লায়ার দেশী গার্মেন্টসগুলা ও বিল না পেলে দেউলিয়া হয়ে যাবে। এটা একটা সেক্টরের উদাহরণ মাত্র। অন্য সেক্টরের অবস্থা ও কম বেশি এক। আমাদের দেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্য ইউরোপ-আমেরিকার মত নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার রেওয়াজ কম। মরা হাতি যেমন লাখ টাকা তেমন মরা বিজনেস কাগজে কলমে জেন্ত দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিয়ে তা গায়েব করে দেয়র সংস্কৃতি এখানে।
পুজিবাজারে লক্কর ঝক্কর মার্কা খাইরুল কোং এর আগমন কম ঘটেনি গত ১০ বছরে। ঐ সব ভাংগারির দোকান আগে থেকেই ইমিউনিটি কম্প্রোমাইজড। এবার করোনার হামলায় পরপারে চলে গেলে কারো কিছু বলার বা করার থাকবে না। নতুন কমিশন হাত ধুয়ে বলবে এদের কোমর্ডিটি ছিল তাই ইনালিল্লাহ, ওই কোম্পানি আমার আমলের না। এরা ইতিমধ্যেই ব্যাংক লোন লুটেছে, পুজিবাজারে আইপিওর টাকা লুটেছে, স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে দিয়ে সেকেন্ডারি ট্রেডারদের পকেট খালি করেছে। আর বেশি কিছু চাওয়া পাওয়া তাদের নাই। করোনা মহামারি উপলক্ষে গলায় ডেথ সার্টিফিকেট ঝুলিয়ে শেষ মাইরটা দিয়ে বিদাই নেয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে নিকট ভবিষ্যতে।

তাই পুজিবাজারের ট্রেডার ভাইদের কাছে একটাই অনুরোধ - ট্রেড করেন সমস্যা নাই। টাকা আপনার ঝুকি ও আপনার। টেকনিক্যাল চার্ট দেখে হোক আর অন্যদের প্ররোচনায় হোক আর্থিক ভাবে দূর্বল কোম্পানি কেনা-বেচা করার আগে দুই বার ভাবেন। যে কোম্পানির শেয়ার কিনে পোর্টফলিও গোডাউন বানিয়ে ফেলেছেন সেই কোম্পানির ভাগ্য যাতে এমারেন্ড অয়েল, কেয়া কসমেটিক, ইউনাইটেড এয়ার না হয়ে যায়। চাইনিজ বিজনেস টাইকুন, আলি বাবার জ্যাক মা বলেছেন, ২০২০ সাল হল টিকে থাকার বছর। বেচে থাকাই হল এই বছরের শ্রেষ্ঠ মুনাফা। কোম্পানি বেচে থাকলে অনেক ব্যবসা হবে ভবিষ্যতে।





তাই আগামী ১২-১৮ মাস কোম্পানি টিকতে পারবে কি না - সেই বিষয়টিকে শেয়ার বাছাই করার জন্য টপ প্রায়োরিটি দিন। টেকনিক্যাল চার্ট যত সুন্দরই হোক আর যত লো-পাইডাপই হোক কোম্পানির ব্যবসার কেমন চলে সেই খোঁজ খবর নিয়ে বিনিয়োগ করুন। দাম বাড়তে দেখলেই অন্ধের মত ঝাপিয়ে পইরেন না। নইলে কেপিসিএল এর ২০০-৩০০ যাবেই যাবে বইলা ক্যানভাসারগন যেমন দেড় মাস আগে ৫০% উতপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানির স্টক ১২০-১৪০ করে খাইয়ে দিয়েছে, এবারো একই ঘটনার পুনঃরাবৃত্তি ঘটা অসম্ভব নয়। মাঝ বয়সে এসে ফিডার খাইলে পাওডার বেচা ডিব্বা ওয়ালদের আর দোষ কোথায়। চক পাওডার আর ফুল ক্রিম মিল্ক পাওডারের পার্থক্য আপনাকেই বুঝতে হবে। নইলে ফিডিং নিশ্চিত।
শেয়ার যাচাই-বাছাই এ আগামী ৬-১২ মাস চরম সাবধানতা অবলম্বন করুন। নইলে কোম্পানির মালিক ক্ষমতাবান হলে চার্টার্ড প্লেনে দেশ ছাড়বে, কম ক্ষমতাবান হলে ঋণ খেলাপি হয়ে ফেরারি আসামি হবে, জেল খাটবে। আর আপনি কোম্পানির শেয়ার নামক কাগজের টুকড়া নিয়ে পুজিবাজারে যাবত-জীবনের জন্য কয়েদি হবেন।

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

হতাশার মাঝেই আশার আলো !




এমজেএল সম্ভবত ৪৫/৫০ থাকা থেকে ১৪০+ হয়েছিল। সামিট ২২ থেকে ৫০, বারাকা ২০-২২ থেকে ৫০, ডরিন ৪৫/৫০ থেকে ১৬০+ ২০১২-১৩ সালের ১৪০/৫০ টাকার স্কয়ার - জিপির উদাহরণ না হয় না ই দিলাম।

তাই দাম কমলেই হতাশ হওয়ার কিছু নাই। চিন্তা ভাবনা করতে চাইলে - সোনার দামে লোহা কিনেছেন না কি কাচের দামে হিরা সেই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করেন। কোম্পানি ভাল হলে আর টিকে থাকলে পুজিবাজারে স্টক তার ন্যায্য দাম ফিরে পারে। আগামী কাল -পরশু না হলেও ৩/৪ বছরের মধ্যে অবশ্যই।

পোর্টফলিও তে শেয়ারের দাম ৩০-৪০% কমে যাওয়ার কারনে নিশ্চই কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় নাই অথবা এই বছরে কোম্পানির মুনাফা ৩০-৪০% কম হবে না। ভাল কোম্পানির স্টক হোল্ড করে তার পরেও যদি আপনার টেনশন হয় - তবে বুঝতে হবে আপনি কোম্পানির মালিকানা কেনেন নাই, কিনেছেন লটারির টিকিট। কোম্পানির ডিভিডেন্ড এর উপর ভরসা না করে প্রাইস মুভমেন্ট স্পেকুলেশন করেছিলেন।


ক্রিকেটে একটা কথা আছে 'Form is temporary but class is permanent'. আপনার হোল্ডিং স্টকের ক্লাস থাকলে টেম্পরারি প্রাইস ফ্লাকচ্যুয়েশন নিয়ে বিশেষ চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই। আর যদি ক্লাস না থাকে তবে সর্ট টার্ম প্রাইস মুভমেন্ট স্পেকুলেশন করা আর কেসিনোতে গিয়ে হাই স্টেক নিয়ে জুয়া খেলায় মধ্যে বিশেষ কোন তফাত নাই - জিততে না পারলে শুন্য পকেটে রাস্তা মাপতে হবে।

প্রথম পুরষ্কার দুই ক্ষেত্রেই ৩০ লক্ষ টাকা । এখন আপনি ১০ টাকায় লটারির টিকিট বছরে ৩/৪ বার কিনবেন না ৫০০ টাকায় প্রাইজ বন্ড জীবনে এক বার কিনবেন তা আপনার ব্যাক্তিগত পছন্দ। বাজারে প্রাইজ বন্ড, আহসানিয়া মিশন লটারি দুইটাই পাওয়া যায়। পুজি হারিয়ে বাজারের ঘাড়ে দোষ দেয়ার আগে নিজের চয়েস ভুল ছিল কিনা তা ভাবুন।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৮

নির্বাচন ও পুঁজি বাজার ভাবনা




পুঁজি বাজারে পতন যেন থামছেই না। নভেম্বর ২০১৭ থেকে শুরু হওয়া পতনে এখন পর্যন্ত  বাজারের প্রধান ইনডেক্স DSEX হারিয়েছে ১,০৫৪ পয়েন্ট বা শতাংশের হিসেবে প্রায় ১৭% এই সময়ে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নতুন এডভান্স ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) প্রতিপালন করতে গিয়ে নভেম্বর ২০১৭ এর শেষ সপ্তাহে পতনের সূত্রপাত ঘটে। সময়ের সাথে সাথে পতনে ইন্ধন দিয়েছে নতুন নতুন ইস্যু - মুদ্রা বাজারে তারল্য সংকট,একের পর এক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, ফরর্মাস ব্যাংক সংকট, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি, ডিএসই'র অংশীদারিত্ব নিয়ে চায়না-ভারতের রশি টানাটানি, আইনি বাধবাদকতায় পুঁজিবাজার থেকে আইসিবির দুই হাজার কোটি টাকার মূলধন প্রত্যাহার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

ছোট-খাটো ইস্যু গুল আমলে নিলে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে পতনের কারন খোঁজা আর খড়ের গাদায় সুই খোঁজা সমর্র্থক। উল্লেখযগ্য বড় বড় এসব ইস্যুর ভিড়ে পুঁজিবাজারের কাঁধে এখন সওয়ার হয়েছে নির্রবাচন ইস্যু। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে পুঁজি বাজার একটি স্পর্শকাতর স্থান। আমাদের মত দেশে,যেখানে বিনিয়োগকারীরা চরম আস্থার সংকটে ভোগে সেখানে পুঁজি বাজার আরো বেশি স্পর্শকাতর। রাষ্ট্রিয় জীবনে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্র্ণ ঘটনা। সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নির্বাচনের একটি প্রচ্ছন্ন প্রভাব থাকে। নির্বাচনের এই প্রভাব বলয় থেকে পুঁজিবাজারের তাই বাইরে থাকা সম্ভব নয়। আজকের আলোচনার অন্যতম লক্ষ হল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উপর নির্বাচনের প্রভাব কতটা তা বিচার-বিশ্লেষণের চেষ্টা করা।  একই সাথে বিরূপ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায়গুলি নিয়ে আলোকপাত করা।  

স্বল্প মেয়াদে পুঁজি বাজারের উত্থান পতনের প্রধান অনুঘটক হল বাজারে লেনদেন করা বিনিয়োগকারীরের মনস্তাত্বিক সবস্থা। তারা আশাবাদী হয়ে উঠলে বাজারে যেমন ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, একই ভাবে তারা ভীত হলে বিপরীত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৫০ এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯০ এর দশকে এটি জনসাধারণের কাছে পরিচিতি লাভ করে।তথ্যের সল্পতার কারনে আমরা তাই ১৯৯৩ থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করব।





১২ই জুন ১৯৯৬ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে ১৯৯৫ এর মধ্য ভাগ থেকেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত ছিল। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে (ফেব্রুয়ারী ও জুন) দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পুঁজি বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। নির্বাচন পূর্ব ১২ মাসে মার্কেট রিটার্ন ছিল প্রায় ২২ শতাংশ এবং নির্বাচন পরবর্তী ১২ মাসে মার্কেট রিটার্ন ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের পুজিবাজারের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত ৯৬ এর ধস সঙ্ঘটিত হয়।

১লা অক্টোবর ২০০১ ১৯৯০ পরর্তী গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় সব চেয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলেও পুজিবাজার ছিল মিশ্র অবস্থায়। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এই মিশ্র অবস্থার পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় নি। এই সময়ে প্রি-ইলেশন মার্কেট রিটার্ন ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ এবং পোস্ট-ইলেকশন মার্কেট রিটার্ন ছিল প্রায় ৩.৩ শতাংশ।
২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ প্রায় দুই বছর মেয়াদী সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি ছিল অভুতপূর্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভাল অবস্থায় থাকা সত্যেও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রায় স্থবির হয়ে ছিল। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ছিল চরম আতংকে। অবস্থা এতটাই অভুতপূর্ব ছিল যে ঢাকার রাস্তায় আমরা মালিকানা বিহীন অবস্থায় কোটি টাকা মূল্যের পোর্শে, বিএমডব্লু পড়ে থাকতে দেখেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে সেনা সমর্থিত সরকারের বিদায়ের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে প্রাণসঞ্চার ঘটে। পুঁজি বাজারেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ ১২ মাসে যেখানে মার্কেট রিটার্ন ছিল -১৪.৫ শতাংশ সেখানে নতুন সরকারের প্রথম ১২ মাসে মার্কেট রিটার্ন ছিল ৫৯.৫ শতাংশ!
৫ই জানুয়ারী ২০১৪ - তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে নির্বাচনের পুর্ববর্তী বছরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠে। লাগাতর অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির চরম অবনতিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কার্যত বাক্সবন্দি হয়ে পরে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ভোট বর্জন করায় নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা ও আস্থার সঙ্কট বিরাজমান ছিল দেশের ব্যবসাবাণিজ্যে। পুজিবাজারেও অনুরূপ আস্থাহীনতা ও দদুল্যমান অবস্থা লক্ষ্য করা যায় এই সময়ে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ১২ মাসে মার্কেট রিটার্ন ছিল যথাক্রমে ৫.২ শতাংশ ও -.৩ শতাংশ। 




ডিসেম্বর ২০১৮/জানুয়ারী ২০১৯ আরও একটি নির্বাচনের প্রায় দোরগোড়ায় পৌছে গেছি আমরা। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন চাপা উৎকণ্ঠা ও অবিশ্বাস দানাবেধেছে তেমনি দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনেও অসস্থি বিরাজ করছে। ঋণ কেলেঙ্কারি, প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা মন্ধ ঋণের বোঝা ও তারল্য সংকটে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুল কঠিন সময় পাড় করছে। আনর্জাতিক বাজারে আমদানী পণ্য ও তরল জ্বালানী দাম বাড়ায় দেশের চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটটি হয়েছে। রফতানির চাইতে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এক সময়ের সস্থির জায়গা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও চাপে আছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বড় মূল্য পতনে রফতানীমুখী ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও আমদানি নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুল কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক সুদের উস্ফালন। দুই বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণের সুদ হার বেড়ে গেছে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার যৌথ ভাবে ব্যাংক ঋণের সুদ হার পুরনায় এক অংকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর নিষ্কৃয়তা অথবা অক্ষমতা হতাশার জন্ম দিয়েছে। রাজনীতি ও অর্থনীতির এই যুগপত সংকটময় অবস্থা পুঁজি বাজারেও অনাস্থা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যন্য স্টেক হোল্ডারদের বারংবার ঘোষণা ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারছে না। ২০১৮ সালের প্রথম দশ মাসে বাজারের প্রধান সূচক হারিয়েছে ৯৬২ পয়েন্ট, শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ১৫.%

পূর্ব্বর্তী নির্বাচনগুলর পর্যালোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভোট অনুষ্ঠানের পূরবর্তী মাসগুলতে পুঁজি বাজার অনিশ্চয়তার দোলাচালে আবর্তিত হয়। মূল ধারার ব্যবসায়ীদের মত পুজিবাজারের বড় বিনিয়োগ থাক প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাক্তি বিনিয়োগকারী উভয়ই পর্যবেক্ষণ ও ধীরে চল নীতি গ্রহণ করায় পুঁজি বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা ও স্বল্প মেয়াদী ঋনাত্নক প্রবণতা সৃষ্টি হয়। আশার কথা এই যে, নির্বাচনী ডামাডোল শেষে পরবর্তী আড়াই-তিন বছর তুলনামূলক শান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের নীতি সহায়তার ধারাবাহিকতা থাকায় ব্যবসাবাণিজ্যে অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। পুঁজি বাজারেও এই সময়ে সময় নতুন আশা, গতিশীলতা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসতে দেখা গেছে অতীতে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পুজিবাজারে উত্থানের অতীত ইতিহাস থাকলেও এই কথা হলপ করে বলা সম্ভব নয় যে, এবারের নির্বাচন শেষেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। নির্বাচন শেষে ব্যবসায়িক মহলের মানসিক সস্তি ফিরে আসবে সত্যি কিন্তু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সমূহ নব গঠিত সরকার কতটা দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে পারবে তার উপর নির্ভর করবে আগামী দিনের পুজিবাজার ও ব্যবসাবাণিজ্যে কেমন চলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের উর্ধগতি, মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি, মন্দ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট কমিয়ে আনা ও ব্যাংক সুদ হার ব্যবসা সহনীয় মত্রায় নামিয়ে আনা নতুন সরকারের জন্য প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুল যথাযথ ভাবে মোকাবেলা করা সম্ভবপর হলে আশা করা যায় যে, আগামী দিনগুলতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ও পুজিবাজারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে।                    


শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮

বাজেট ২০০১৮-১৯: বিনিয়োগকারীদের যোগ-বিয়োগের খাতায় শূন্য




প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ও পুজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাই আগ্রহ নিয়ে নতুন বাজেট পর্যালোচনা করছেন; পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মেলাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর প্রেজেন্টেশন দেখে এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন রিপোর্ট পড়ে আমার ধারনা হয়েছে - এবারের বাজেট পুঁজি বাজারের জন্য খুবই গতানুগতিক। বিশেষ কিছু পাওয়ার আনন্দে আত্নহারা অথবা না পাওয়ার বেদনায় নীল হবার মত কিছু এবারের বাজেটে অনুপস্থিত।

এবারের বাজেট থেকে পুজিবাজারের বড় প্রাপ্তি ব্যাংক,ফাইনান্স,ইনস্যুরেন্স ও জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ২.৫% টেক্স রেয়াত। যা অর্থ সংকটে আক্রান্ত আর্থিক খাতের কোম্পানিরগুলোকে কিছুটা হলেও সস্তি দেবে। তবে মন্দ ঋণের আড়ালে ব্যাংকগুলো থেকে যে পরিমাণ টাকা লোপাট হয়েছে তার ক্ষত এই ২.৫% মলম দিয়ে সারবে কিনা বলা মুশকিল। মাস দেড়েক পড়ে ব্যাংক-ফাইনাসসের ২য় প্রান্তিক আসলেই প্রকৃত অবস্থা আঁচ করা যাবে। তাই ব্যাংক-ফাইনান্স নিয়ে এখনই উতলা না হয়ে ধীরে চল নীতি নেয়া যেতে পারে। কিছু ব্যাংক-ফাইনান্স যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনা মূলক ভাল ও মন্দ ঋণ কম তাদের জন্য এই ছাড় আয় বাড়ানোর উপলক্ষ হবে। এছাড়া ইনস্যুরেন্স ও জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর আয়েও পজেটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে বলে আশা করছি।

আর্থিক খাতের বাইরে ঔষধ ও পোশাক খাতের কোম্পানিগুল কিছু কিছু বিশেষ শ্রেণীর কাঁচা মাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। ফলে তাদের মুনাফাও বাড়বে। তবে এক্ষেত্রে আমি সুবিধা প্রাপ্তি বিবেচনায় পোষক খাতের চাইতে ঔষধ খাতকেই অনেকটা বেশী এগিয়ে রাখব। পাশাপাশি এলএনজি আমদানিকে কেন্দ্র করে শিল্প খাতের গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াবার প্রকৃয়া চলমান। যোগবিয়োগ শেষে কোম্পানিগুলোর ব্যালেন্স শীট কতটা সাস্থবান হবে তা দেখার বিষয়।  

ব্যাক্তি বিনিয়োগকারী হিসেবে এবারের বাজেট থেকে আমাদের সরাসরি কোন প্রাপ্তি নেই। শূন্য কর আয় সীমা আগের মতই ২.৫ লাখ টাকায় স্থির রয়েছে। ডিভিডেন্ড আয়ের উপর শূন্য কর সীমা আগের মতই ২৫ হাজার টাকায় নির্দিষ্ট আছে । আমার বিবেচনায় পুঁজি বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এবারের বাজেট হল জিরো-সাম গেম। বাজেট নিয়ে উৎফুল্ল হবার মত বিশেষ কিছু নেই আবার আতঙ্কিত হবার মত ও কিছু নাই।

বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১৮

শুভংকরের ফাঁকি : কষ্ট প্রাইসে এক্সপোজার গণনা

 

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিচালিত এক জনমত জরিপে ৫৬ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৪৬ জন বিশ্বাস করেন যে, 'বাংলাদেশ ব্যাংক কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার গণনার সার্কুলার দিলে বাজার ভাল হবে।' প্রায় ৮২ শতাংশ বিনিয়োগকারী যেহেতু এটা বিশ্বাস করছেন সেহেতু কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার গণনার সার্কুলার আসলে বাজার সল্প সময়ের জন্য হলেও ভাল হতে পারে। সংখ্যা গরিষ্ঠের শক্তি অবশ্যই কিছু না কিছু আছে।

তবে আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ বলে বাজার ভাল হবার সাথে কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার গণনার সরাসরি কোন সম্পর্র্ক নাই। এটা ইনস্টিটিউট গুলির মার্র্কেটকে জিম্মি করে সুবিধা আদায় করার চেষ্টা মাত্র। গত বছর ইনস্টিটিউট গুলি পুঁজি বাজারে ভাল ব্যবসা করেছে , অধিকাংশই বড় প্রফিট বুক করেছে। সেই মুনাফার টাকা তারা বাজারে আর আনে নাই। ২-৪ টা ব্লু চিপ স্টক ছাড়া বাকি সব স্টক ২০-৫০% কারেকশন হয়েছে ইতিমধ্যে। মানে বর্র্তমান মার্র্কেট প্রাইসে এক্সপোজার গণনা করলে তাদের সবার কাছে বিনিয়োগ করার মত যথেষ্ট পুঁজি থাকার কথা কিন্তু তারা বাজারে আসছে না। মার্রচেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারদেড় দুই সঙ্গগঠনের নেতারাও সরাসরি বলেছেন তাদের কাছে পুঁজি আছে কিন্তু বাংলাদেশ ব্যংকের নীতির জন্য তারা বাজারে আসছেন না।

আসল ঘটনা হল মার্র্কেট প্রাইসে এক্সপোজার গণনার মূল লক্ষ ছিল মার্র্কেট স্টেবল রাখা। যখন বাজার বাড়তে থাকবে তখন ইনস্টিটিউট শেয়ার বিক্রি করে সাপ্লাই বাড়াবে আবার শেয়ারের দাম কমলে তারা কিনে সপোর্র্ট দিবে। এই জিনিসটা মার্র্কেট প্রাইসে এক্সপোজার গণনার মাধ্যমেই সম্ভব। ঠিক যেমন গত সেপ্টেম্বর-নিভেম্বরে ইনস্টিটিউট গুলি বাধ্য হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছিল। দাম কমায় এখন তাদের কেনার কথা কিন্তু তাঁরা তা করছে না।

বাজার ভাল করার জন্য সকলের দাবির মুখে বাংলাদেশ ব্যংক যদি কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার গণনা শুরু করে তবে হয়ত বর্র্তমান বিপদ কাটবে কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের বীজ বোনা হবে। বাজার যখন আবার বারা শুরু করবে তখন কোন ইনস্টিটিউটকেই বাদ্ধ করা যাবে না শেয়ার বিক্রি করে সাপ্লাই বারবার জন্য। ডিমান্ড বাড়বে কিন্তু পরর্যাপ্ত সাপ্লাই থাকবে না। ফলে আবার আরেকটা ২০১০ এর মত বড় বাবল তৈরী করে ইনস্টিটিউটগুলি মার্র্কেট লুট করার সুজোগ পাবে। কারন গত তিন-চার বছরে এটা প্রমান হয়ে গেছে যে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও বাজার নিয়ত্রনে তাদের সক্ষমতা কম। অপ্রিয় সত্য হল মার্র্কেটের নিয়ন্ত্রণ এখন বড় পুঁজির ইনস্টিটিউটগুলির হাতে।        

শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

আদার বেপারি হয়ে জাহাজের খোঁজ নেয়া অর্থহীন




ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার চীন, ভারত কে কিনবে তা নিয়ে মহা হুলুস্থুর হচ্ছে। আমরা বিনিয়োগকারীরাও অনেকে বুঝে না বুঝে অযথা টেনশন করছি। ডিএসই’র শেয়ার যে-ই কিনুন তাতে আমাদের বিনিয়োগকারীদের সরাসরি কোন লাভ-লোকসান নাই। ২২ টাকা, না ১৫ টাকা এই টেনশন রিজভী-লালি সাহেবদের, আমাদের না। ওনারা ডিএসই’র মালিক, ৭ টাকা কম বেশী পেলে উনারা পাবেন, আমরা না। আগের কথা না হয় বাদ দিলাম ২০১০ এর পর থেকে মার্কেটে কেয়ামত চলমান থাকলেও ডিএসই প্রতি বছরই কম বেশী মুনাফা করেছে। ২০১৭ সালেও ১০ টাকার শেয়ারে ০.৬ টাকা লাভ করেছে। এর ভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোন দিন পায় নি আর পাবেও না।

ডিএসই’র শেয়ার যদি আপনি কিনতে পারেন তবেই এই লাভের ভাগ আপনি পাবেন। আশার কথা হল চায়না-ভারতের গেঞ্জাম মিটলে ডিএসই’র শেয়ার পাবলিকের কাছেও বিক্রি হবে আইপিওর মাধ্যমে। কবে, কত টাকায় আইপিও দিবে সে প্রশ্ন না হয় ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাকল।

তো ভারত ৫ বছরের জন্য ও চীন ১০ বছরের জন্য ডিএসই’র শেয়ার কিনতে চাইছে। এই মেয়াদের পর চাইলে তাঁরা অন্য কারো কাছে তাদের শেয়ার বেচে লাভ সহ পুঁজি তুলে নিতে পারবে। ডিএসই’র আয়ের প্রধান মাধ্যম হল ট্রেড কমিশন। আমরা যে ২৫/৩০/৪০/৫০ পয়সা ট্রেড কমিশন দেই তা থেকে ৩-৫ পয়সা ডিএসই পায়। ভারত-চীন যে-ই কিনুন তাকে মুনফা করতে হলে মার্কেট কেপিটালাইজেশন বাড়াতে হবে সাথে ট্রেড ভলিউম। নুন্যতম ৮০০শ কোটি টাকা ট্রেড না হলে ডিএসই’র সেই দিন লোকসান গুনতে হয়।

১৫-২২ টাকা ইনভেস্ট করে চীন-ভারত কেউ ডিএসইতে লস গুনতে আসবে না। ৫/১০ বছরে দুই-তিন গুন মুনাফা নিয়ে তবেই বের হবে। আর শুধু লাভই নয় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-চীন এখন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার দখন নিয়ে অদৃশ্য যুদ্ধে লিপ্ত। বাংলাদেশে কন্সটাকশন, পাওয়ার প্লান্ট, ডিপ সি পোর্ট ইত্যাদি বহু কিছু নিয়েই কাড়াকাড়ি চলছে। এখন পর্যন্ত সরকার দুই দেশকেই ভাগ-বাটোয়ারা করে কাজ দিয়ে খুশি রাখার চেষ্টা করছে। ডিএসই নিয়েও হয়ত এমন কোন ভাগ-বাটোয়ারার সমাধান হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগকারী হিসেবে আমাদের খুশি থাকা উচির। ভারত-চীন যে-ই আসুক তাঁরা নিজের লাভের জন্যই বাজারে নতুন নতুন কোম্পানির আনবে, নতুন প্রডাক্ট আনবে, ট্রেড ভলিউম বাড়াবে, দেশী-বিদেশি বিনিয়োগকারী আনবে। তাঁরা সব সময় চেষ্টায় থাকবে বাজারের তেজী ভাব ফিরিয়ে আনতে, ধরে রাখতে। তাই চীন-ভারত কে পাবে এই টেনশন বাদ দিয়ে নিজের জন্য ভাবুব। সামনের বুল মার্কেট সেটা ২/৪ বছর পর যখন-ই ঘটুক আপনি তা থেকে কতটুকু নিতে পারবেন সেই চিন্তা-ভাবনা করুন।