গত ৫-১০ বছর ধরে এভাবেই স্কয়ার রিজার্ভ বিন্ডাপ করছে। আমার ব্যাক্তিগত ধারণা এটা বড় কিছুর জন্য পুর্ব প্রস্তুতি। কারণ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ LDC থেকে গ্রেজুয়েট হবে। তখন বাংলাদেশের ঔষধ কোম্পানি গুলা আর রয়ালিটি ফি ছাড়া পেটেন্টেড ড্রাগস উতপাদন করতে পারবে না।
সাধারণত নতুন আবিষ্কৃত ঔষধ ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত পেটেন্ট করা থাকে। এই সময় এক মাত্র আবিষ্কারক ঔষধ কোম্পানি সেই ঔষধ সারা দুনিয়ায় বিক্রি করতে পারে। অথবা তার কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে রয়ালিটি ফি দিয়ে অন্য কোন কোম্পানি তা উতপাদন করতে পারে। যেমন বাংলাদেশে ডায়বেটিক পেশেন্টদের ব্যবহৃত ইন্সুলিন পেটেন্টেড ড্রাগস। এলডিসিতে থাকায় আমাদের কোম্পানি গুল রয়ালিটি দেয়া ছাড়াই ইন্সুলিন উতপাদন করতে পারত। কিন্তু এলডিসি গ্রেজুয়েট হয়ে গেলে ঐ ইন্সলিনের নতুন ভেরিয়েন্টের দাম পড়বে বর্তমান দামের ৩/৪ গুন বেশি। কিছু কিছুর দাম ১০ গুন পর্যন্ত হবে। কেন্সার চিকিৎসার ঔষধ গুলার ক্ষেত্রে ও একই অবস্থা হবে।
অর্থাৎ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের ১০-১৫% ঔষধের দাম কয়েকগুল বেরে যবে শুধুমাত্র পেটেন্ট ফি ইম্পোজ হওয়ার কারনে। ঐ ঔষধ গুল তখন হয় বিদেশ থেকে কিনে এনে দেশে বিক্রি করতে হবে। অথবা লাইসেন্স নিয়ে দেশেই বানাতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে আপনি বিদেশ থেকে কিনে আনেন অথবা দেশে লাইসেন্স নিয়ে বানান উভয় ক্ষেত্রেই আপনাকে এক কালিন মোটা টাকা খরচ করে ডিস্ট্রিবিউশন লাইন্সেন্স অথবা ম্যানুফেকচারিং লাইসেন্স নিতে হবে।
স্কয়ারের যেহেতু ইউএস এফডিয়ে লাইসেন্স রয়েছে সেহেতু আমেরিকার স্টেন্ডার্ডে ঔষধ বানানোর টেকনোলজি, ম্যানপাওর এবং স্কিল তার আছে। পেটেন্টেড ড্রাগস যা দেশে অনেক চাহিদা সেগুলর জন্য ম্যানুফেকচারিং লাইসেন্স নিবে কোম্পানির গুল। আর যেগুলর চাহিদা অল্প সেগুলো হয়তো সরাসরি ইম্পোর্ট হবে।
এখন বিদেশি বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি গুলা বাংলাদেশে সেন্টাল ফার্মা কিংবা সিলকো ফার্মাকে এই ম্যানুফেকচারিং লাইসেন্স দিবে না। এমনকি আমদানি করার জন্য ডিস্ট্রিবিউশন লাইসেন্স ও দিবে বলে মনে হয় না। লাইসেন্স গুল যাবে দেশের শক্তিশালী ঔষধ কোম্পানি গুলোর কাছে। আমার ধারণা এখানে একটা মনোপলি তৈরি হবে। বিশেষ বিশেষ ঔষধ দেশে আমদানি কিংবা তৈরি করার লাইসেন্স হয়তো একটা মাত্র কোম্পানির কাছেই থাকবে। যে কোম্পানির কাছে ম্যানুফেকচারিং লাইসেন্স থাকবে সে ঐ ঔষধ বানিয়ে মূল নামেই সারা দুনিয়ায় বিক্রি করতে পারবে। আর বলাই বাহুল্য ঐ একই ঔষধ মূল মালিক কোম্পানি ইউরোপ আমেরিকায় বানাতে যে খরচ করবে বাংলাদেশে তার উতপাদন খরচ কম হবে। ফলে দেশ থেকে ঐ ঔষধ মূল নামেই (জেনেরিক নামে না) বিদেশে রফতানি হওয়ার ভাল সুযোগ তৈরি হবে।
একই ভাবে উচ্চ রয়ালিটির কারণে ঔষধের দাম কমানোর একটা চেষ্টা হবেই। যার প্রধান উপায় হল দেশেই নতুন ঔষধ আবিষ্কার করা। পেটেন্টেড ড্রাগস হওয়ায় আবিষ্কারক কোম্পানি নিজের ইচ্ছা স্বাধীন দামে ঔষধ এক চেটিয়া ভাবে ১২ থেকে ২০ বছর বিক্রি করার সুযোগ পাবে দেশে-বিদেশে যদি নতুন কোন ঔষধ আবিষ্কার সম্ভব হয়। ফলে এই সুযোগটা নেয়ার জন্য রিসার্চ এ প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হবে। আর এই দৌড়ে এগিয়ে থাকবে স্কয়ারের মত ক্যাশ রিচ কোম্পানিগুল!!
দেশে এক চেটিয়া ব্যবসার সুযোগ এবং বিদেশি রফতানির সম্ভাবনা ঔষধ কোম্পানি গুলোর মুনাফা বৃদ্ধির দারুণ সুযোগ নিয়ে আসবে নিকট ভবিষ্যতে। আমার ব্যাক্তিগত ধারণা স্কয়ার ফার্মা গত এক যুগ ধরে সেই সুযোগটা সদ ব্যবহার করার প্রস্তুতিই নিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন