বিষয় সন্ধান

বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

Bangladesh Shipping Corporation (BSC)






উল্লেখযোগ্য দিক:
  • বহরে আছে সদ্য কেনা নতুন পাচ টি জাহাজ
  • মাত্র ৩% সুদে ২০ বছর মেয়াদি চায়নিজ ঋণে জাহাজ গুল কেনা হয়েছে ২০১৯ সালে।
  • জাহাজ গুলার ইকোনমিক লাইফ টাইম ২৫-৩০ বছর।
  • বাংলাদেশী জাহাজ হিসেবে দেশিয় বন্ধরে অগ্রাধিকার
  • সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের পন্য পরিবহনে অগ্রাধিকার পাওয়া।
  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ঋণ চুক্তিতে নতুন আরো ছয়টা জাহাজ বহরে যুক্ত হবে ২০২৭ সালে।
  • ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রজেক্টেড এনুয়াল ইপিএস ১৯ টাকা, পিই ৪.৭!
  • গত তিন বছরে দাম সর্বোচ্চ ১৭০, সর্বনিম্ন ৫৩, বর্তমান ৯০

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন সাম্প্রতিক সময়ে একটা বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর পরই যাত্রা শুরু করা সরকারি এই প্রতিষ্ঠান তার স্বর্ণালি সময়ে ৪৪ টি ছোট বড় জাহাজ পরিচালনা করত। কিন্তু সময় মত পুরোনো জাহাজকে নতুন জাহাজ দিয়ে রিপ্লেসমেন্ট না করার মেয়াদ উত্তির্ন হয়ে চলাচল উপযোগী জাহাজ সংখ্যা কমতে কমতে মাত্র ২ টিতে নেমে আসে।
২০১৮-১৯ সালে চাইনিজ ঋণে ৬ টি নতুন জাহাজ কেনার মাধ্যমে অবশেষে ফ্লিট মডানাইজেশন শুরু হয়। নতুন কেনা একটা জাহাজ ইউক্রেইন বন্দরে মিসাইল আঘাতে পরিত্যেক্ত হয় (যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়া গেছে ইন্সুইরেন্স কোম্পানী থেকে) এবং পুরোনো ২ টা জাহাজ বিক্রি করে দেয়ায় বর্তমানে ফ্লিট সাইজ ৫ টি তে নেমেছে।

প্রকল্প- ১: জুন ২০২৫ এ  প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে ২ টা বাল্ক ক্যারিয়ার কেনার প্রসেস শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ৮৫০-৯৫০ কোটি টাকায় কেনা ২ টা জাহাজ ফ্লিটে যুক্ত হবে। যা থেকে বছরে প্রায় ১০০-১২০ কোটি টাকা মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বাস্তবায়ন:  ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ নতুন কেনা জাহাজ দুটি বিএসসির বহরে যুক্ত হয়েছে 

ভবিষৎ প্রকল্প সমূহ  

প্রকল্প- ২:  চীনের ঋণে ৪টি নতুন জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প (আপডেট: ৯ই আগস্ট ২০২৬)


প্রকল্প ব্যয়: চুক্তি অনুযায়ী চীনের এক্সিম ব্যাংক দেবে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। চার জাহাজ কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার।

ঋণের উৎস: চীন সরকারের G2G সহায়তায় ২% সুদে কনসেশনাল লোন।

জাহাজের বিবরণ: ২টি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (১,০০,০০০ DWT প্রতিটি)। ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার (৮০,০০০ DWT প্রতিটি)।

টাইমলাইন: ফ্রেমওয়ার্ক ও ঋণচুক্তি সম্পন্ন এবং চীনা পক্ষের স্বাক্ষর প্রক্রিয়াও শেষ। দ্রুতই  জাহাজের স্টিল কাটিং ও নির্মাণকাজ শুরু হবে। গত ১১ মার্চ ২০২৬ চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ৯ জুলাই অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিএসসির হয়েছে সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ)। জাহাজ নির্মাণ করবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।

বাস্তবায়ন: ২০২৯ এর মধ্যে হস্তান্তরের সম্ভাবনা।


প্রকল্প- ৩: সরকারি ঋণ এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৩টি রেডিমেড জাহাজ ক্রয় প্রকল্প (আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬)


প্রকল্পের সারসংক্ষেপ: বিএসসি ১,৪৬৬.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি 'মিডিয়াম রেঞ্জ প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার' কেনার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এই পুরো অর্থায়নটি সরকার করবে।

জাহাজের সক্ষমতা: প্রতিটি অয়েল ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা হবে ৪০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ ডেডওয়েট টন (DWT)। 

বর্তমান অবস্থা: পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে ডিপিপি (Development Project Proposal) জমা দেওয়া হয়েছে। গত ২ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (PEC) সভার  নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে ডিপিপি পুনর্গঠন করে গত ১২ মে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখন একনেক-এ (ECNEC) অনুমোদনের অপেক্ষা। 

একইভাবে বিএসসির নিজস্ব অর্থায়নে ৫৫ থেকে ৬৬ হাজার ডেডওয়েট টনের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার কেনার উদ্যোগও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। গত ১৫ জুন প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ডিপিপি নতুন করে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেই কাজ এখনো ৫০ শতাংশের মতো শেষ হয়েছে।


সংগ্রহ পদ্ধতি: জাহাজগুলো সরাসরি 'রিসেল মার্কেট' থেকে কেনা হবে। এছাড়া কোনো নামী শিপইয়ার্ডে যদি কোনো জাহাজের কাজ ৫০-৭০% সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে সেগুলোও টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে।

বাস্তবায়ন: প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিনিয়োগ হাইপোথিসিস : সম্ভাবনা যেমন আছে সাথে আশংকা ও আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেশিয় ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিকল্পনার সাথে কাজের মিল খুঁজে না পাওয়ার। লাল ফিতার দৌড়াত্যে সুন্দর পরিকল্পনা ও আটকে যাওয়ার নজির ভুরি ভুরি এই দেশে। তাই সতর্ক আশাবাদ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে যাওয়াই শ্রেয়। আপাতত ৭ টি জাহাজের সাথে ৩ টি নিজের+সরকারি  অর্থায়নে কেনা এবং ৪ টি নতুন চায়নিজ  ঋণে কেনা জাহাজ যুক্ত হয়ে আগামী ৩/৪ বছরের মধ্যে ফ্লিট সাইজ ১৪ টি তে উন্নিত হওয়ার ভাল সম্ভাবনা দেখছি। যদি এই টুকু হয় তাহলে কোম্পানির এনুয়াল প্রফিট ৬০০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা যায়। আগামী তিন-চার বছরে ২০০% প্রফিটিবিলিটি গ্রোথ - মন্ধ অফার নয়!

বর্তমান দাম, ঝুকির তুলনায় মুনাফার আনুপাতিক হিসেবে আমার কাছে অফারটি এক্সেপ্ট করার মতই সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে।

৩টি মন্তব্য: